সিইসিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২২, ০২:২২ এএম

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার পুমরা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের একটি ওয়ার্ডে সদস্য পদে প্রদত্ত ভোটের হিসাবে গরমিল নিয়ে রিট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ প্রতিপালিত না হওয়ায় গতকাল রবিবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়। আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

সিইসি কেএম নুরুল হুদা, ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবির খোন্দকার, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজিদ আলম এবং চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচনী কর্মকর্তাকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবিএম আলতাফ হোসেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আবুল কাশেম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কাশেম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাদীর আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় রিটার্নিং কার্যালয় থেকে শুরু করে ইসি কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এরপর হাইকোর্টের নির্দেশনার পরও তারা আবেদনটি নিষ্পত্তি করেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল দিয়েছে হাইকোর্ট।’

বাদীপক্ষে আইনজীবীরা জানান, গত বছর ২৮ নভেম্বর রাঙ্গুনিয়ায় পুমরা ইউপি নির্বাচন হয়। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ২ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্যপদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর (৪৬২ ভোট) কাছে অন্য প্রার্থী আহমদ কবির (৪৫১ ভোট) ১১ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। ওয়ার্ডের মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ১৭৯ জন। ফলাফলে প্রদত্ত ভোট ওয়ার্ডের সদস্যদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৪৪৫ জন এবং সংরক্ষিত নারী সদস্যের (একই ওয়ার্ড) ক্ষেত্রে দেখানো হয় ১ হাজার ৪৭৪ জন। এতে আপত্তি তোলে ভোটের পুনঃগণনা চেয়ে গত ২ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়সহ ইসিতে আবেদন করেন আহমদ কবির। তাতে সাড়া না পেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। গত ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তার আদেশে ইসিকে আহমদ কবিরের আবেদনটি ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই ওয়ার্ডের ফল স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেয় আদালত। গত ৭ ডিসেম্বর হাইকোর্টের এ আদেশটি ইসিকে অবহিত করেন বাদীপক্ষের আইনজীবীরা। পরে ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের আদেশের অনুলিপি পাঠান তারা। কিন্তু ২৩ ডিসেম্বর ওই ওয়ার্ডের ফলাফলের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করা হয়। হাইকোর্টের আদেশ প্রতিপালন না করে গেজেট প্রকাশ করায় ইসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিস পাঠান রিট মামলার বাদী আহমদ কবির। তাতেও জবাব না পাওয়ায় হাইকোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত