অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে রাখার এসএমএস পেয়ে বিভ্রান্তিতে গ্রাহকরা

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:২০ পিএম

ব্যাংক আমানত থেকে সরকার নির্ধারিত হারে আবগারি শুল্ক কাটছে ব্যাংকগুলো। তবে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে রাখার এসএমএস পেয়ে গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। 

নতুন বছরের শুরু এবং বিদায়ী বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনেক গ্রাহক তাদের মোবাইলে টাকা কেটে রাখার বিষয়ে এসএমএস (বার্তা) পেয়েছেন। কেন এই টাকা কাটা হচ্ছে, তা অনেক গ্রাহকই বুঝতে পারছেন না। অনেকে অ্যাকাউন্টে জমা থাকা অর্থের সঙ্গে যে পরিমাণ শুল্ক কেটে রাখা হয়েছে সেটা বেশি বলে মন্তব্য করছেন।

এসএমএস পাওয়া গ্রাহকদের অনেকে জানান, ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট আছে সেই অ্যাকাউন্ট থেকে একটা নির্দিষ্ট অংকের টাকা এক্সাইজ ডিউটি বা আবগারি শুল্ক নামে কেটে রাখার কথা জানিয়েছে ব্যাংক।

ব্যাংক থেকে এমন বার্তা পেয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট করে ‘কেন এই টাকা কাটা হয়েছে’ তা জানতে চেয়েছেন।

জানা যায়, ব্যাংক আবগারি শুল্ক হল ব্যাংক আমানতের উপর একটি নির্দিষ্ট হারে সরকারের কর বা শুল্ক। ২০২০ সালের জুলাই থেকে হিসাব করে বছরান্তে এখন সেই অর্থ রাজস্ব বোর্ডের হয়ে কেটে নিচ্ছে ব্যাংকগুলো। কোনো হিসাবে বছরের যে কোনো সময় ১ লাখ টাকার বেশি টাকা জমলে সেই হিসাব থেকে কাটা হচ্ছে ১৫০ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহাবুবুর রহমান বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বছরে দুই বার- একবার জুনে এবং একবার ডিসেম্বরে টাকা কেটে রাখা হয়।

তিনি বলেন, এটা সরকারের রেভিনিউ জেনারেট করার একটা প্রসেস। সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইন্টারনাল রিসোর্স ডিভিশন যেটাকে আইআরডি বলে তাদের নির্দেশনা মতো হয়। এখানে ব্যাংকের কোন আয় নেই। পুরোটাই ব্যাংক সরকারের হয়ে কালেক্ট করে সরকারের অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়।

তিনি বলেন, বর্তমান নিয়মে সারা বছরে যদি ব্যাংক হিসাবে স্থিতি ১ লাখ টাকার কম থাকে, তাহলে কোনো আবগারি শুল্ক দিতে হবে না। কিন্তু সারা বছরের কোনো সময় যদি ব্যাংক হিসাবে ১ লাখ টাকার বেশি কিন্তু ৫ লাখ টাকার কম থাকে, তখন ১৫০ টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সারা বছরের কোন সময় যদি ব্যাংক হিসাবে ৫ লাখ টাকার বেশি কিন্তু ১০ লাখ টাকার কম থাকে তখন তাকে ৫০০ টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হচ্ছে একাউন্ট প্রতি এক বছরের জন্য।

তিনি জানান, যে সব ব্যাংক হিসাবে বছরের কোনো সময় অর্থের পরিমাণ ১০ লাখ টাকার বেশি হয়েছে, কিন্তু ১ কোটি টাকা ছাড়ায়নি, সেসব হিসাব থেকে ৩ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক  কাটা হচ্ছে।

তিনি জানান, ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি টাকার বেশি ছিল, কিন্তু ৫ কোটি টাকার কম ছিল, এমন হিসাবধারীদের ১৫ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হচ্ছে। সারা বছরের কোনো সময় যদি ব্যাংক হিসাবে ৫ কোটি টাকার বেশি থাকে, তখন ৪০ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হয়ে।

বছরে একবারই এই আবগারি শুল্ক নেওয়া হয়ে থাকে বলে জানান মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহাবুবুর রহমান।

তিনি আরও জানান, টিন থাকলে ভ্যাটের ১০ শতাংশ কেটে রাখা হয়। আর টিন না থাকলে ১৫ শতাংশ কেটে রাখা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত