দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দাম নতুন বছরের প্রথম মাসে ৪ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গতকাল সোমবার এক ঘোষণায় প্রতিকেজি এলপিজির দাম ৪ টাকা ১৫ পয়সা কমিয়েছে বিইআরসি। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মাস এলপিজির দর কমানো হলো। একই সঙ্গে কমেছে পরিবহনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত এলপিজির (অটোগ্যাস) দামও।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় দেশেও এর দাম কমানো হলো।
বিইআরসির মাসিক মূল্য নির্ধারণের ঘোষণায় বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে প্রতিকেজি এলপিজির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য হবে ৯৮ টাকা ১৭ পয়সা, যা ডিসেম্বরে ছিল ১০২ টাকা ৩২ পয়সা। এই হিসাবে প্রতিকেজিতে এলপিজির দাম কমছে ৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নতুন হারে দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ১৭৮ টাকা, যা ডিসেম্বরে ছিল ১ হাজার ২২৮ টাকা। অর্থাৎ, ১২ কেজির সিলিন্ডারে একজন ভোক্তার সাশ্রয় হবে ৫০ টাকা। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
টানা পাঁচ মাস মূল্যবৃদ্ধির পর গত ডিসেম্বরে এলপিজির দাম কমা শুরু করে। জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মাসের মত দাম কমল, যার মূল কারণ সৌদি সিপি অনুযায়ী প্রোপেন ও বিউটেনের মূল্য কমে আসা। নতুন মাসে এলপিজির মূল উপাদন প্রোপেন প্রতিটন ৭৪০ ডলার, বিউটেন প্রতিটন ২১০ ডলার এবং এই দুইয়ের মিশ্রণের দাম প্রতিটন ৭২০ দশমিক ৫০ হিসাব করা হয়েছে। গত মাসের মতোই ডলারের বিনিময় মূল্য ধরা হয়েছে ৮৫ টাকা ৮৫ পয়সা।
প্রতিকেজি এলপিজির খুচরা মূল্য ৯৮ টাকা ১৭ পয়সা ধরে জানুয়ারিতে সাড়ে ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫৪০ টাকা, সাড়ে ১২ কেজির দাম ১ হাজার ২২৭ টাকা, ১৫ কেজির দাম ১ হাজার ৪৭৩ টাকা, ১৬ কেজির দাম ১ হাজার ৫৭১ টাকা, ১৮ কেজির দাম ১ হাজার ৭৬৭ টাকা, ২০ কেজির দাম ১ হাজার ৯৬৩ টাকা, ২২ কেজির দাম ২ হাজার ১৬০ টাকা, ২৫ কেজির দাম ২ হাজার ৪৫৪ টাকা, ৩০ কেজির দাম ২ হাজার ৯৪৫ টাকা, ৩৩ কেজির দাম ৩ হাজার ২৪০ টাকা, ৩৫ কেজির দাম ৩ হাজার ৪৩৬ টাকা এবং ৪৫ কেজির দাম ৪ হাজার ৪১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জানুয়ারি মাসে রেটিকুলেটেড এলপিজির দাম দাঁড়াচ্ছে প্রতিকেজি ৯৪ টাকা ৯৪ পয়সা। বিইআরসির ঘোষণা অনুসারে, জানুয়ারি মাসের জন্য যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম হবে প্রতিলিটার ৫৪ টাকা ৯৪ পয়সা, যা ডিসেম্বর মাসে ছিল ৫৭ টাকা ২৪ পয়সা। এতে লিটারে কমেছে প্রায় ২ টাকা ৩০ পয়সা।
বিইআরসির চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রতি মাসে সৌদি সিপি, মূসক ও ডলারের বিনিময় মূল্য এই তিনটি সূচকের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে এলপিজির দাম ঠিক করা হচ্ছে। সরকারি এলপিজির ক্ষেত্রে এসব বিষয় না থাকায় আপাতত দাম অপরিবর্তিত থাকছে।
