ভাইরাল ভিডিওটিকে মিডিয়ার কারসাজি বললেন সেই আ.লীগ নেতা

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৪২ এএম

‘নৌকায় সিল না মারলে কাউকেই ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হবে না। কেউ নির্দেশ না মানলে তালিকা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ এমন বক্তব্য দেওয়া আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছেন।

সোমবার বিকেলে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে তিনি লিখিত জবাব দেন। এতে ভাইরাল হওয়া ওই বক্তব্যটি তার নয় বলে দাবি করেছেন বানেশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। একইসঙ্গে তিনি বিষয়টিকে মিডিয়ার কারসাজি বলেও জবাবে উল্লেখ করেছেন।

এর আগে রবিবার বিকেল ৫টায় উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে নোটিশ দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব চাওয়া হয়।

গত রবিবার কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়েছিল, ‘পুঠিয়ার বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের নৌকা প্রার্থীর আবুল কালাম আজাদ আপনি গত ৩১ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্য প্রদান করেন যে, নৌকায় সিল না মারলে কাউকেই ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হবে না। কেউ নির্দেশ না মানলে তালিকা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং দৈনিক পত্রিকায় আপনার উল্লিখিত বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। আপনার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়েছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছে। আপনার এই বক্তব্যটি নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এমতাবস্থায় কেন আপনার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা-২০১৬ এর বিধি-৩১ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। পত্রপ্রাপ্তি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলো।’

এই নোটিশের জবাবে আবুল কালাম আজাদ লিখেছেন, ‘নির্বাচন আচরণ-বিধি লঙ্ঘনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা অসত্য ও ভিত্তিহীন। এ ধরনের কোনো বক্তব্য আমি কোথাও বলি নাই। আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী অথবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে এবং নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার জন্যই অপচেষ্টায় মিডিয়ার সম্পূর্ণ কারসাজি।’

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জয়নুল আবেদীন বলেন, নৌকা প্রার্থী সময়মতোই কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছেন। তবে তিনি ওই ভিডিওর বক্তব্য তার নয় বলে দাবি করেছেন। এখন এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিধিমালা-২০১৬ এর বিধি-৩১ অনুযায়ী ওই প্রার্থীর আর্থিক জরিমানাসহ ছয় মাস পর্যন্ত জেল হতে পারে। আর এটা ক্ষমতা রয়েছে ম্যাজিস্ট্রেটের।

এ বিষয়ে জানতে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছকে সোমবার সন্ধ্যার পর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি মুঠোফোন ধরেননি।

এর আগে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্য দেন আবুল কালাম আজাদ। সেই বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিও ক্লিপে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি কিন্তু ভোট বর্জন করেছে। উনারা ভোট বর্জন করার পরে আওয়ামী লীগের সাথে চোট্টাপনা করার জন্য অনেকজন অনেক কিছু সেজে বইসে আছে। স্বতন্ত্রপ্রার্থী হয়েও আসলে তারা বিএনপির ঢাল। তাই আমি বলবো আপনারা খোঁজ রাখবেন, কার বাড়িতে এই স্বতন্ত্র প্রার্থী ঢুকছে তার তালিকা করবেন। আমি নির্বাচনের পরে তারই ব্যবস্থা নিবো। আর যদি ওরা ভোট কেন্দ্রে যায় তবে, সোজা কথা ভোট নৌকায় সিল মাইরে দেখিয়ে দিবে। তাহলে ভোট দিতে দিবে। না হলে ভোটের মাঠেও ঢুকতে দিবে না। যদি তাও না পারেন  ঐ ব্যক্তির তালিকা করবেন, আমি বানেশ^রে তার ব্যবস্থা করবো তার বাড়িতে এসে। এটা আমি বলে গেলাম। আমার কথাতে যদি ভুল হয়ে থাকে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আমাকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী করে দিবেন। আমি সব ব্যবস্থা করে দিবো ইনশাআল্লাহ্। ”

উল্লেখ্য, পঞ্চম ধাপে ৫ জানুয়ারি পুঠিয়ায় বানেশ্বর ইউপিতে নির্বাচন হবে।

আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ছাড়াও আনারস প্রতীক নিয়ে বানেশ্বরে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি সমর্থিত) আবদুল রাজ্জাক ও হাতুড়ি প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি মনোনীত মামুনুর রশিদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত