সুখ-সমৃদ্ধি আল্লাহর দান

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০৫ এএম

‘সুখ’ একটি অতি পরিচিত শব্দ। পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ পাওয়া যাবে না, যে সুখ-সমৃদ্ধির আশায় থাকে না। একটু সুখের আশায় মানুষ কত-ই না কষ্ট করে। সেই ছোটবেলা থেকে মা-বাবা, শিক্ষক, আত্মীয়-স্বজনসহ জ্ঞানী ব্যক্তিদের থেকে বলতে শুনেছি, তোমাদের অনেক বড় হতে হবে। তখন সেই ছোট মানুষগুলো হয়তো এটাই বুঝত, আমরা এখন লম্বায় তাদের থেকে কম, আমরা যখন তাদের মতো লম্বা, সুঠাম দেহের অধিকারী হব তখন হয়তো আমরা বড় হব। আসলে এটা ছিল ছোট্ট বেলায় হারিয়ে যাওয়া মনি মুক্তার চেয়ে দামি কিছু সময়। ফুটন্ত গোলাপের মতো ছিল, সব আবদার, চাওয়া-পাওয়া। প্রকৃতপক্ষে, আমাদের অভিভাবকেরা এটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন, তোমরা বড় হয়ে সুন্দরভাবে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে, ভালো মানুষ হয়ে সমাজের বুকে বেঁচে থাকবে। ডাক্তার, সাংবাদিক, আইনজীবী, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীসহ যাদের যে পেশা ভালো লাগে, সে পেশায় তাদের সন্তানদের গড়ে উঠতে সাহায্য করে। শুধু এই ভুবনে যেন সুখ-শান্তিতে বসবাস করতে পারে সেই আশায়।

অথচ আমরা লক্ষ্য করলে দেখতে পাই, অনেকে ভালো অবস্থানে থাকার পরেও তার জীবনে সুখের বিন্দুমাত্র নেই। আবার কেউ দিনমজুরের কাজ করেও পরম সুখে দিনাতিপাত করছে। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে, আল্লাহ যদি কাউকে সুখ-শান্তি না দেয়, পৃথিবীর কারও শক্তি নেই তাকে শান্তি দিতে পারে। পক্ষান্তরে, তিনি যদি কাউকে প্রশান্তিতে রাখতে চান, তাহলে পৃথিবীর কারও ক্ষমতা নেই তাকে অশান্তিতে ভোগাতে পারে।

আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘যদি আল্লাহতায়ালা তোমাকে কোনো দুঃখ-কষ্ট দেন তাহলে তিনি ছাড়া কেউই নেই তাকে দূরীভূত করার, (আবার) তিনি যদি তোমার কল্যাণ চান তাহলে তার সে কল্যাণ রদ করার ক্ষমতা কারও নেই; তিনি তার বান্দাদের যাকে চান, তাকেই তা প্রদান করেন; তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’ সুরা ইউনুস : ১০৭

প্রকৃতপক্ষে টাকা, সম্পদ, ক্ষমতা দিয়ে অনেক কিছু করা যেতে পারে কিন্তু, এসব দিয়ে সুখ কেনা যায় না। ‘মনের সুখ-ই আসল সুখ।’ নদীপথে মাঝিরা মনের সুখে গান গায়, আবার (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত) অফিসে বসে কেউ ডিপ্রেশনে ভুগে। অনেকে বিয়ের আগে সম্পর্কে জড়িয়ে, নিজের পছন্দ মতো বিয়ে করে অশান্তির দাবানলে জ্বলে-পুড়ে; অন্যদিকে ইসলাম মেনে অনেকে বিয়ে করে সুখের সংসার করছে। বাস্তবতা হলো, যদি কারও ভাগ্যে ‘সুখ’ না থাকে তবে সে, সুখের দেশেও অসুখী থাকবে। আর যদি কারও ভাগ্যে ‘সুখ’ থাকে তবে সে যেকোনো অবস্থাতেই সুখে থাকবে।

ইসলামি স্কলারদের মতে, যদি কোনো ব্যক্তি আল্লাহর পথে নিজেকে পরিচালিত করে; তার এই চলা পথে যত বাধা আসুক, মহান আল্লাহ সেসব মোকাবিলার ক্ষমতা তাকে দেন। বাহ্যিক দিক দিয়ে আমরা যদিও দেখি লোকটি কষ্টে আছে, কিন্তু তার হৃদয়টা যদি কেউ দেখতে পেত, তাহলে সত্যিই আশ্চর্য না হয়ে কেউ থাকতে পারত না। আমাদের সমাজের অনেকেই সারারাত নাইটক্লাবে কাটিয়ে, আল্লাহর হুকুম অমান্য করে এসে ঘুমায়। অনেকে আবার রাতে এশার নামাজ আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ে এবং সকালে ফজরের নামাজ দিয়ে দিন শুরু করে। এই দুই শ্রেণির মানুষের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর হুকুম পালন করে, সকাল শুরু করে তিনি মনে যেমন তৃপ্তি পাবেন, প্রশান্তি সহকারে দিন কাটাবেন পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ দিয়ে, সেই তৃপ্তি লাভ করা অসম্ভব। একজন মুসলিম হিসেবে আমরা যদি আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করি, তার রহমতের সাগরে ডুব দেই, আশা করি; তিনি আমাদের প্রতি সহায় হবেন এবং ইহকাল ও পরকালে আমরা পরম সুখে-শান্তিতে থাকব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত