কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নের প্রধান সড়ক গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় সেখানে পৌঁছাতে পারেনি শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ফাইজারের টিকা। এ ছাড়া অনুন্নত এই ইউনিয়নে টিকা সংরক্ষণের জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কোনো কক্ষ নেই। তাই হেঁটে ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পাশের মাতারবাড়ী ইউনিয়নে গিয়ে টিকা নিচ্ছে কোমলমতি
শিক্ষার্থীরা। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৭৩৪ শিক্ষার্থীকে। এত পথ হাঁটতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
সূত্রে জানা যায়, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় মহেশখালীর ধলঘাটা ইউনিয়নের ধলঘাটা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের ৩৪৭ জন, ধলঘাটা বদরুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার ১৪০ জন এবং মহুরীঘোনা মোহাম্মদিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ২৪৭ জনসহ মোট ৭৩৪ জন শিক্ষর্থীকে গত রবিবার থেকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী পাশের ইউনিয়নে গিয়ে টিকা নিয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে বাকি শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া সম্পন্ন হবে।
এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, ধলঘাটা থেকে মাতারবাড়ীতে টিকা নিতে আসা খুবই কষ্টকর। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের প্রায় ২০কিলোমিটার পথ হেঁটে সেখানে যেতে হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ধলঘাটার দূরত্ব ও যাতায়াতের সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে এখানে টিকাকেন্দ্র স্থাপন জরুরি ছিল।
অভিভাবকরা জানান, মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের বড় অংশ পড়েছে ধলঘাটা এলাকায়। প্রকল্পের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে ইতিমধ্যে শ্রমিকদের টিকা দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হলে প্রকল্পের ওই কক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য টিকাকেন্দ্র স্থাপন করা যেত। কিন্তু তা না করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ২০ কিলোমিটার দূরে পাঠানো হয়েছে। এটি চরম বৈষম্যের বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেন তারা।
ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, ‘ফাইজারের টিকা এসি গাড়িতে করে বহন করতে হয়, ধলঘাটের রাস্তা যান চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় পাশের ইউনিয়নে টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. মাহফুজুল হক বলেন, ‘টিকাগুলো এসি গাড়িতে পরিবহন করে এসি রুমে সংরক্ষণ করতে হয়। গাড়ি আসতে না পারার পাশাপাশি রুমের অভাবে ধলঘাটায় কেন্দ্র করা যায়নি।’
