রাজশাহীতে নির্মাণাধীন ভবনে উপেক্ষিত শ্রমিকের নিরাপত্তা

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২২, ০১:৪৫ এএম

রাজশাহীতে বহুতল ভবন নির্মাণে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার অভাবে সম্প্রতি বেশ কয়েকজন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আবার ভবন নির্মাণের সময় ওপর থেকে নির্মাণসামগ্রী যাতে নিচে না পড়ে তারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে না।

গত বছর ১৯ ডিসেম্বর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ভেতর নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে মাথায় ইট পড়ে নাজিম উদ্দিন (৫০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। গণপূর্ত বিভাগ ঠিকাদারের মাধ্যমে এ ভবন নির্মাণ করছে। দুর্ঘটনার দিন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেছিলেন, নির্মাণকাজে সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও ঠিকাদারের লোকজন তা শোনেননি।

গত ৮ জানুয়ারি আলেক (৩৫) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাবি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন সংস্কার কাজের সময় ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়। সম্প্রতি নগরীর দড়িখড়বোনা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি পাঁচতলা ভবন থেকে পড়ে পবা উপজেলার এক নির্মাণশ্রমিক আহত হন। এর কদিন পর এ ভবনটির পাশেরই আরেকটি পাঁচতলা নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে আরেক নির্মাণশ্রমিক আহত হন। শহরে এখন দুর্ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটছে। মূলত নির্মাণকাজ চলার সময় যে নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকার কথা তা না মানার কারণেই এসব ঘটনা ঘটছে। এরই মাঝে চরম ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন শ্রমিকরা।

জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুযায়ী, কাজের সময় শ্রমিকের মাথায় হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক। কংক্রিটের কাজের শ্রমিকদের হাতে গ্লাভস ও চোখের জন্য ক্ষতিকর কাজ হলে শ্রমিকদের চশমা ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ভবনের ওপরে কাজ করার সময় শ্রমিকের নিরাপত্তায় বেল্ট ব্যবহারও বাধ্যতামূলক। কিন্তু রাজশাহীতে বেশিরভাগ সময়ই এসব উপেক্ষিত হচ্ছে।

ইমরাত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশের (ইনসাব) রাজশাহী জেলা সভাপতি আজিজুল হক বাঙালী বলেন, ‘রাজশাহীতে শ্রমিকদের নিরাপত্তার অভাব খুব বেশি। বহুতল ভবনে মালিকরা জোরপূর্বক কাজ করাচ্ছে নিরাপত্তা ছাড়াই। আমরা ভবনগুলোর নিরাপত্তা বেষ্টনী চাই।’

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) অথরাইজড অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা নকশা অনুমোদন দেওয়ার সময় বলেই দিই যে, ভবন নির্মাণের সময় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সাইটের প্রকৌশলীকেও বিষয়টা মনে করিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কেউ যদি নিরাপত্তা বেষ্টনী নিশ্চিত না করে তাহলে আমাদের ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো আইনগত বিধান নেই। এ ক্ষেত্রে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ ব্যবস্থা নিতে পারে।’

তবে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের শ্রম পরিদর্শক (সেফটি) হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা আলাদা একটা কাজ নিয়ে খুব ব্যস্ত আছি। ভবনের নিরাপত্তার বিষয়টা এখন দেখা হচ্ছে না। তবে কোথাও শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পেলে আমরা তদন্ত করি। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে দিই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত