উপাচার্যের বাসার পানি-বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিল শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ০২:২৪ এএম

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। গতকাল রবিবার রাত ৮টার দিকে আন্দোলনকারীদের অন্যতম মুখপাত্র সাদিয়া আফরিন দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ভিসির বাসভবনে পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মী ছাড়া শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সর্বসাধারণের প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ করে দেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এরপর বাসভবনের সামনে মানবদেয়াল তৈরি করেন তারা। রাত ৯টার দিকে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। আন্দোলকারীদের অন্যতম মুখপাত্র ইয়াসির সরকার বলেন, ‘আমরা বাসভবনের বাইরে আটকে আছি, আর উনি সবার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন, সেটা হতে পারে না। এখন থেকে উপাচার্যের বাসভবনে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না।’ বিষয়টিকে অবরুদ্ধ না, বরং অহিংস একটি কর্মসূচি দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু উপাচার্যের বাসভবনে সবকিছুরই ব্যবস্থা আছে, তাই এটিকে অবরুদ্ধ হিসেবে বলা যাবে না। তবে পরিস্থিতি যেভাবে যাচ্ছে এবং যেভাবে কালক্ষেপণ হচ্ছে, তাতে আমরা হয়তো বাধ্য হব উপাচার্যকে তার বাসভবনে অবরুদ্ধ করতে।’

এদিকে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে ২৪ শিক্ষার্থীর আমরণ অনশনের ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সবাই। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করা ১৬ জনের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন সিলেট এম এ জি ওসমানী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

মেডিকেল টিমের ভলান্টিয়ারের বক্তব্য : অনশনরত শিক্ষার্থীদের সেবায় গঠিত মেডিকেল টিমের ভলান্টিয়ার হিসেবে যুক্ত রয়েছেন সাকিব সাদমান নামে এক শিক্ষার্থী। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে সাদমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১০০ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। চোখের সামনে রাফি ভাই, সাকিব আর নিশাতদের শরীর খারাপ হতে দেখেছি। স্যালাইন দেওয়া ছাড়া কিছুই করতে পারছি না। দাবি না মানলে কেউ খাবার খাবে না। এখানে থাকা সবার হাত শুকিয়ে একটা কাঠের টুকরো মতো হয়ে যাচ্ছে। একজনের স্যালাইন দেওয়ার ভেইন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নিশাতের শ্বাসকষ্টের সমস্যা, অনেক বেশি খিঁচুনি উঠলেও সে পানি খায় না। রায়ান ভাইয়ের শরীর থেকে তার কলিজা যে বড় সে ইতিমধ্যে তার প্রমাণ দিয়েছে। তাদের মধ্যে কাজলের অবস্থা এতই বাজে যে, বারবার হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে তাকে কোনোভাবেই আটকে রাখা যাচ্ছে না। সে তার সহযোদ্ধাদের ছেড়ে যেতে চায় না। ’

 তিনি বলেন, শাহরিয়ার ১০০ ঘণ্টা অনশন করার পরও অনেক কষ্ট করে প্রেস ব্রিফিং করছে। শরীরটা তার ভালো না তবে মনোবল অনেক। রাফি ভাইকে স্যালাইন দিয়ে ভালো রাখা হচ্ছে। স্যালাইন ২ ঘণ্টার জন্য খোলা হইছিল স্বাস্থ্যের বাজেভাবে অবনতি হয়। রুবির কথা কী বলব মেয়েটার নানু মারা যায় তাও সে অনশন ছেড়ে যায়নি। কাল রাতের সিদ্ধান্ত নেওয়া গণঅনশনে নতুন করে হিয়া আপু, সামিরা আর শাফিনও অংশ নেয়। আর আজ থেকে তারাও অনশনে। এই শিক্ষার্থী বলেন, অনশনরত শিক্ষার্থীরা যখন বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলছিল তখন তাদের বাবা-মায়ের কান্না আমার কানেও আসছিল। একজনের বাবা তো হার্ট অ্যাটাক করে। কালকে কাফন মিছিলে যাইতে পারিনি, অনশনের এখানে থাকার কারণে কিন্তু ছবি দেখে কান্না ধরে রাখতে পারিনি। শাবি শিক্ষার্থী সাকিব বলেন, শিক্ষামন্ত্রী, প্রশাসন, শিক্ষক সমিতি কিছুই আমি বুঝি না। এতটুকুই বুঝে আমার ভাইবোনকে কাফনে মোড়াতে দিয়েন না। তাদের এই ন্যায্য দাবিতে তাদের পাশে থাকুন।

ডাক্তারের বক্তব্য : অনশনকারীদের চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসক দলের প্রধান ডা. নাজমুল হাসান দেশ রূপান্তরকে জানান, এখানে যারা অনশনরত রয়েছে তাদের কারও অবস্থা ভালো নেই। কী হবে বলা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়েছে। পানিশূন্যতায় নানা উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। রক্তচাপ নেমে যাচ্ছে। রক্তে শর্করার পরিমাণ ৪-এর নিচে নেমে গেছে। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সবার রক্তচাপ ও গ্লুকোজ লেভেল নেমে যাচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে কেউ কোমায় চলে যেতে পারে। হাসপাতালে যারা আছে তাদেরও অনশন ভাঙানো যাচ্ছে না।

এদিকে গত শনিবার রাতে গণঅনশন কর্মসূচির ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারীরা। এরই অংশ হিসেবে সে দিন রাত থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত নতুন করে আরও ৫ শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেছেন। আন্দোলনকারীরা বলেছেন, গণঅনশনে অংশ নেওয়ার সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে। গত বুধবার বিকেল ২টা ৫০ মিনিট থেকে ২৪ জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেন। পরে এক শিক্ষার্থীর বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তিনি বাড়িতে চলে যান। পরে গত শনিবার থেকে স্বেচ্ছা গণঅনশন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

এদিকে গত শনিবার রাতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ভার্চুয়াল বৈঠকের পর গতকাল রবিবার দুপুরের পর আবারও বৈঠকে বসার কথা ছিল। তবে এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে ক্যাম্পাসে আসা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখনো কিছু জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র ইয়াসির সরকার বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী অনশন ভেঙে আলোচনা করতে বলেছেন। কিন্তু আমরা জানতে চেয়েছিলাম যে-বোমাবাজ-গুলিবাদী উপাচার্যের পদ বেশি দামি নাকি অনশনরত শিক্ষার্থীদের জীবন? এ প্রশ্নের উত্তর আমরা এখনো পাইনি। পদত্যাগের দাবি ছাড়া অন্যান্য অভিযোগ সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রীকে লিখিতভাবে জানানোর জন্য সব অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

সহিংসতার দায় নেবে না শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা : উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনে সংহতি জানাতে ক্যাম্পাসের বাইরে আয়োজিত কোনো কর্মসূচিতে সহিংসতা হলে তার দায় তারা নেবেন না জানিয়েছেন শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র সাদিয়া আফরিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ১৪ জানুয়ারি থেকে শাবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন শুরু করে যা এখনো চলমান। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ আমাদের এই যৌক্তিক দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। সেজন্য তাদের আমরা অনেক ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই দাবি খুবই সাধারণ এবং এক দফা। আমাদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কেউ যদি তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহার করতে চায় এবং সহিংসতায় জড়ায়, তবে তার দায়ভার কোনোভাবেই আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা নেবে না।’

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আলোচনায় সমাধান আসেনি : ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে সোয়া এক ঘণ্টা আলোচনা করেও কোনো সমাধান আসেনি। বরং শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে অনশন ভাঙার প্রস্তাব আসলে শিক্ষার্থীরা সময় চান। সেই সঙ্গে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন শিক্ষার্থীরা। গত শনিবার রাত ১টা থেকে সোয়া ২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

নাদেল বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আন্তরিকভাবে শিক্ষার্থীদের সকল কথা শুনেছেন। তারপর শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন প্রশাসনিকভাবে কিংবা একাডেমিকভাবে কোনো শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হবে না। তাদের সকল দাবিদাওয়া আলোচনার মাধ্যমে মেনে নেওয়া হবে জানিয়ে অনশন ভাঙার কথা বলেন। তখন শিক্ষার্থীরা রবিবার (গতকাল) সকাল পর্যন্ত সময় চান। 

তিনি আরও বলেন, ‘সন্ধ্যায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠক হয়। বৈঠকের পর রাতে শিক্ষার্থীরা আমাকে জানান, তারা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে অনলাইনে আলোচনায় বসতে চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন শিক্ষামন্ত্রী।’

এদিকে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ভিসির পদত্যাগের জোর দাবি জানালে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত চার বছর উনি বিশ্ববিদ্যালয় ভালো চালিয়েছেন। তাই দ্বিতীয় মেয়াদে উনাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে মানুষ হিসেবে ভুল হতেই পারে। সে ক্ষেত্রে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু পদত্যাগই একমাত্র সমাধান না। তবে শিক্ষার্থীরা এক দফা এক দাবিতে অনড় থাকেন।

পরে শিক্ষামন্ত্রী রবিবার (গতকাল) দুপুর ১টার সময় তার সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলেন এবং দাবিগুলো লিখিত আকারে দিতে বলেন। তবে দুপুর ১টার সময়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আলোচনার কথা থাকলেও কোনো আলোচনা এ রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত হয়নি।

পুলিশি হামলা ও প্রশাসনের নিন্দা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষক পরিষদেও বিবৃতি : আন্দোলনের ১২ দিন পরে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা এবং প্রশাসনের তৎপরতার নিন্দা জানিয়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ। গত শনিবার রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা জানান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের প্রিয় শিক্ষার্থীদের জীবন বিপন্ন হতে চলেছে। এমতাবস্থায় শিক্ষক হিসেবে আমরা শুরু থেকেই চলমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে লক্ষ করছি যে, দায়িত্বশীল ব্যক্তিগণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের আক্রমণের ব্যাপারে কোনো অফিশিয়াল ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে না-দিয়ে কালক্ষেপণের মাধ্যমে অনশনরত শিক্ষার্থীদের জীবন চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।

অনশন ভাঙতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ভয় দেখানোর অভিযোগ : গতকাল অনশনস্থল ভিসির বাসভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের একজন লিখিত বক্তব্যে বলেন, তাদের (অনশনকারী) প্রায় সবাইকে ডিপার্টমেন্ট থেকে ফোন দিয়ে পরোক্ষভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। বাসায় ফোন দিয়ে বলা হচ্ছে, তাদেরকে দেখার নাকি কেউ নেই। যেখানে আমাদের ভলান্টিয়ার টিম থেকে ডাক্তাররা সর্বক্ষণ তাদের দেখভাল করছেন। এমনকি গতকাল একটি বিভাগের শিক্ষকরা একজন শিক্ষার্থীকে তার অমত সত্ত্বেও জোরপূর্বক জুস খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এসব পরিস্থিতি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব রাখলেও আজকে অনশনের পঞ্চম দিনে এসেও তারা কেউ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন ভাঙবেন না বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. আলমগীর কবিরকে একাধিকবার ফোন ও এসএমএস পাঠিয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি।

মশাল মিছিল, উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা দাহ : উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে মশাল মিছিল করছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। রবিবার পৌনে ১০ টার দিকে প্রায় সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি  বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্ছ থেকে শুরু হয়ে অনশনস্থল ঘুরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিল শেষে উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন আন্দোলনকারীরা।

শাবিপ্রবির ভিসির পক্ষে অন্য ভিসিদের বিবৃতি : শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে চাপে থাকা শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন আহমেদের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ। সংগঠনের পক্ষে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অধ্যাপক ফরিদের পদত্যাগের যে দাবি তোলা হয়েছে তা দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের চক্রান্ত। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নীতিবহির্ভূতভাবে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে এখন যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্টি করা হচ্ছে তা সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে তোলার মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ফেলার একটি চক্রান্তের অংশ বলেই প্রতিভাত হচ্ছে।’

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে গত বৃহস্পতিবার ভার্চুয়ালি এক ‘জরুরি সভা’ করা হয়। সে সভার দুই দিন পর গণমাধ্যমে এই বিবৃতি আসে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত