ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদের নির্বাচন। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঢাকার চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) শিল্পী সমিতির স্টাডিরুমে ভোটগ্রহণ হয়। তবে গতকাল রাত দেড়টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা শহিদুল হারুন গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, মোট ৪২৮ ভোটারের মধ্যে ৩৬৫টি ভোট পড়েছে। সুন্দর ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ হয়েছে। দু-তিনটি মৌখিক অভিযোগ ছিল, সেগুলো আমরা সঙ্গে সঙ্গে সমাধান করেছি। কোনো লিখিত অভিযোগ নির্বাচন কমিশনারের কাছে আসেনি।
গত বছর ৩০ অক্টোবর চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের মেয়াদ শেষ হয়। পরে সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, নির্বাচনকে ঘিরে এফডিসিতে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। শিল্পী সমিতির সদস্য ছাড়া এফডিসিকেন্দ্রিক বাকি ১৭টি সংগঠনের সদস্যরাও এফডিসিতে প্রবেশে বাধার সম্মুখীন হন। এ বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান এফডিসির মূল ফটকের সামনে প্রতিবাদ করেন।
এছাড়া নির্বাচনের দিন দুপুরে জায়েদ খানের বিরুদ্ধে ‘ভোটারদের টাকা দেওয়ার’ অভিযোগ তুলেছিলেন নিপুণ; যা জায়েদ খান অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা শহিদুল হারুন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি।’ এছাড়া নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে ভোটাররাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নির্বিঘেœ ভোট দিতে পেরেছেন বলেও জানিয়েছেন তারা।
এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ২২টি পদের জন্য ৪৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার মধ্যে মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান সবশেষ দুই মেয়াদে শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে ছিলেন। তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তারা। অন্যদিকে সভাপতি পদে ইলিয়াস কাঞ্চন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নিপুণ আক্তার প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া দুটি সহসভাপতি পদে ছিলেন মোট চারজন। তারা হলেন ডিএ তায়েব, মাসুম পারভেজ রুবেল, মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও রিয়াজ।
সহসাধারণ সম্পাদক সুব্রত, সাইমন সাদিক; সাংগঠনিক সম্পাদক আলেকজান্ডার বো, শাহানূর; আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক জয় চৌধুরী, নিরব; দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক আরমান, জ্যাকি আলমগীর; সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক জাকির হোসেন, মামনুল ইমন (ইমন); কোষাধ্যক্ষ পদে লড়েন আজাদ খান ও ফরহাদ।
কার্যকরী পরিষদের মোট পদ ১১টি। দুটি প্যানেল থেকে ১১ জন করে এবং দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেনÑ অঞ্জনা সুলতানা, অরুনা বিশ্বাস, অমিত হাসান, আলীরাজ, আফজাল শরীফ, আসিফ ইকবাল, কেয়া, গাঙ্গুয়া, চুন্নু, জেসমিন, ডন, নাদির খান, নানাশাহ, পরীমণি, ফেরদৌস, বাপ্পরাজ, মৌসুমী, রোজিনা, রবিউল ইসলাম হরবোলা, শাকিল খান, সুচরিতা, সাংকোপাঞ্জা, সিমান্ত ও হাসান জাহাঙ্গীর।
