নতুন নির্বাচন কমিশন আইনটি আমার কাছে অসম্পূর্ণ মনে হয়

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৫৬ পিএম

ড. এম সাখাওয়াত হোসেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা। বর্তমানে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এসআইপিজির রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ করছেন। ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২’ ও নির্বাচন ব্যবস্থাসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়াবলি নিয়ে তিনি কথা বলেছেন।  সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেশ রূপান্তর সম্পাদকীয় বিভাগের এহ্্সান মাহমুদ

দেশ রূপান্তর : ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২’ গত ২৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে পাস হলো। এটি বহুল আলোচিত ঘটনা বর্তমান সময়ে। সংসদে এবং সংসদের বাইরে এটি নিয়ে নানামুখী আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। সংসদের বিরোধী দল থেকে শুরু করে অন্যান্য রাজনৈতিক দলসমূহ নির্বাচন কমিশন আইন তৈরির দাবি জানিয়ে আসছিল। মাত্র মাস দুয়েক আগেও আইনমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ীমী লীগের শীর্ষ নেতারা বলে আসছিলেন, এইবার আইন তৈরি সম্ভব নয়। সেখানে এখন দ্রুত এই আইন উত্থাপন ও পাস হয়ে গেল কেন বলে মনে করেন?

এম সাখাওয়াত হোসেন : অনেকদিন ধরে লোকজন বলে আসছিল একটি আইন করার কথা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও চাহিদা ছিল, দাবি ছিল। তাই সরকার এই আইনটি করেছে। যাতে সরকার বলতে পারে যে, আমরা তো একটি আইন করেছি। এই নতুন নির্বাচন কমিশন আইনকে একটি অসম্পূর্ণ আইন বলা যেতে পারে। এ ছাড়া আর কিছু আমার কাছে এই মুহূর্তে মনে  হচ্ছে না।

দেশ রূপান্তর : এতদিন দেশে কোনো নির্বাচনী আইন ছিল না। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরে তৈরি হওয়া নতুন এই আইনকে কীভাবে দেখছেন?

এম সাখাওয়াত হোসেন : এই আইন নিয়ে বেশি কিছু বলার ইচ্ছা নেই। এখন তো আইনটা হয়ে গেছে। এই আইন নিয়ে তাই আর কোনো আশা নেই। যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন দেখা যাক ভবিষ্যতে কী হয়! যদি ভবিষ্যতে কেউ এই আইনের সংশোধন করে তবে তখন দেখা যাবে কী হয়। সরকার আইন তৈরির আগে নাগরিক সমাজ বা সংসদের বিরোধী দলগুলোর সব প্রস্তাব বিবেচনায় নেয়নি। আশা করি, ভবিষ্যতে আইনটি পরিপূর্ণ হবে। আইনটি সমৃদ্ধ করায় উদ্যোগী হবে।  বর্তমান সংসদের প্রতিনিধিত্বশীল দলগুলো আইনটি নিয়ে আলোচনা করেছে এটি ভালো ঘটনা।

দেশ রূপান্তর : এই আইনকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? 

এম সাখাওয়াত হোসেন : জাতীয় সংসদে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগ বিল ২০২২’ নামে যে আইনটি পাস হয়েছে, সেটি অপূর্ণাঙ্গ। এটাকে পরিপূর্ণ ইসি গঠন আইন বলতে পারি না। আমি বলব, সার্চ কমিটি বা অনুসন্ধান কমিটি গঠনে এই আইন হয়েছে। যেহেতু প্রথমবারের মতো একটি আইন হয়েছে, তাই সুযোগ ছিল এর মধ্যে আরও কিছু বিষয় যুক্ত করা। নতুন আইনে বলা হয়েছে, সার্চ কমিটি একটি নামের তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন। রাষ্ট্রপতি সেই তালিকা থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্য কমিশনার নিয়োগ দেবেন। এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, আমরা জানি, সংবিধানে রয়েছে প্রধান বিচারপতি এবং প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ছাড়া বাকি সব কাজে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিয়ে করবেন। এর ফলে সার্চ কমিটির তৈরি করা নামের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবে এবং এখানে তিনি মতামত দেবেন। এই হচ্ছে নতুন আইন।

দেশ রূপান্তর : নতুন নির্বাচন কমিশন কাদের নিয়ে গঠিত হবে? আপনার পরামর্শ যদি বলেন...

এম সাখাওয়াত হোসেন : প্রথমেই বলি, সরকারকে পরামর্শ দিতে চাই না। পরামর্শ দেওয়ার কিছু নেই। এখন এই আইন হওয়ার পরে নির্বাচন কমিশনে কারা আসবেন এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আমি মনে করি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) থেকে শুরু করে কমিশনার যারাই থাকবেন তাদের প্রশাসনিক দক্ষতা থাকতে হবে। স্বাধীনভাবে কাজ করার ইচ্ছা থাকতে হবে। সবচেয়ে যেটি জরুরি, আইনে যেটুকু ক্ষমতাই দেওয়া আছে, সেটুকু প্রয়োগের সক্ষমতা থাকতে হবে।

দেশ রূপান্তর : কোনো কোনো রাজনৈতিক দল আবার নির্বাচনকালীন সরকার নিয়েও আপত্তি তুলেছে। সেখানে এই আইন যেটি হলো তা নির্বাচনে অংশ নিতে, রাজনৈতিক দলগুলোকে সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দেবে বলে মনে করেন?

এম সাখাওয়াত হোসেন : নির্বাচন কমিশনারের হাতে সুষ্ঠু নির্বাচন থাকে না। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা, তা নিশ্চিত করবে সরকারের সদিচ্ছা। এছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন নির্ভর করবে আমলাদের ওপর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর। যেমন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনটি হয়েছে।

দেশ রূপান্তর : নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন কেমন হয়েছে বলে মনে করেন?

এম সাখাওয়াত হোসেন : নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন ভালো হয়েছে বলতে হবে। এই নির্বাচনে সরকারি দলের যে প্রার্থী ছিলেন তিনি উইনিং পজিশনে ছিলেন, ভোটের মাঠে তাই প্রভাব বিস্তার করতে হয়নি। তাই নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সরকারকে কোনো উদ্যোগ নিতে হয়নি। বলা যায়, নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন তাই ভালো হয়েছে। এই নির্বাচনে দেখা গেছে সরকারের সদিচ্ছা থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব।

দেশ রূপান্তর : তাহলে আগামী নির্বাচনে এই আইন কতটা সহায়ক কিংবা ফলপ্রসূ হতে পারে বলে মনে করেন?

এম সাখাওয়াত হোসেন : এখন কথা হচ্ছে সরকার যেভাবে চেয়েছে, সেইভাবে এই আইনটি করতে পেরেছে। তাই আগামী নির্বাচনে এই আইন কতটা ও কীভাবে সফল হবে, তা নির্ধারণ করে সরকারের সদিচ্ছার ওপর। আর নির্বাচনের এখনো অনেকদিন বাকি, তাই নির্বাচন নিয়ে এখনই মন্তব্য করতে চাই না। 

দেশ রূপান্তর : অনেক ধন্যবাদ, আপনাকে।

এম সাখাওয়াত হোসেন : ধন্যবাদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত