রাস্তায় পার্কিং করতে হবে সচিবালয়ের গাড়ি!

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২২, ০১:৪৭ এএম

সচিবালয়ের কাজ নির্বিঘ্ন করতে চারটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনার মধ্যে আছে শিক্ষা ভবন মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত অর্থাৎ আব্দুল গণি রোডে রিকশা বা ভ্যান চলাচল বন্ধ, সচিবালয়ের সামনে ও দেয়ালে কোনো ধরনের তোরণ তৈরি করা যাবে না, ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন বসানো বা ঝুলানো যাবে না।

সেইসঙ্গে সব উপ-সচিব ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাইক্রোবাসসহ নিরাপত্তার কোনো গাড়ি সচিবালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সেসব গাড়ি রাখতে হবে মুক্তাঙ্গনে।

প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের কাজকর্ম নির্বিঘ্ন করতে এমন সব বাধ্যবাধকতা দেওয়ার কথা জানিয়ে গত ২৫ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে এসব নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এই চিঠি পেয়ে পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য সব মন্ত্রণালয়ও তাদের অধীনে থাকা বিভাগ ও দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব (প্রশাসন-১) এ কে এম মিজানুর রহমান গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মূলত বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হয়েছে। আমরা চিঠি পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের পাঠিয়েছি। মুক্তাঙ্গনে কীভাবে উপ-সচিব ও অন্যদের মাইক্রোবাসের পার্কিংয়ের বিষয়টিও তারা (জননিরাপত্তা বিভাগ) ঠিক করেছে।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ সচিবালয় দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কেন্দ্র এবং একটি উচ্চ সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। মাত্র ১৭ দশমিক ৫৩ একর জমিতে ১১টি ছোট-বড় ভবন ও ৬টি ক্যান্টিন রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বিভিন্ন সভায় আসা সদস্য ও দর্শনার্থীসহ প্রায় ২৫ হাজার লোক প্রতিদিন সচিবালয়ে গমনাগমন এবং ৫ থেকে ৬ হাজার যানবাহন প্রবেশ করে।’

জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব মো. ফিরোজ উদ্দিন খলিফা স্বাক্ষরিত চিঠিতে চার ধরনের নির্দেশনার মধ্যে যে বিষয়টি নিয়ে সমস্যা হতে পারে বলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মনে করছে সেটা হলো বাইরে গাড়ি রাখা নিয়ে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘সচিবালয়ে কর্মরত  সব উপসচিব এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাইক্রোবাস মুক্তাঙ্গনে বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পার্কিংয়ে অবস্থান করতে হবে। কোনো মতেই সচিবালয়ে অবস্থান করতে পারবে না। নিরাপত্তা কাজে থাকা গাড়ি কোনোভাবেই সচিবালয়ে প্রবেশ করবে না। এসব যানবাহন বাইরে পূর্বপাশে অর্থাৎ জিরো পয়েন্ট থেকে পল্টন মোড়ের সড়কটিতে অবস্থান করবে।’

মুক্তাঙ্গনে পার্কিংয়ের বিষয়ে ডিএসসিসির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফরিদ আহম্মেদ। গতকাল তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মুক্তাঙ্গনে ডিএসসিসির একটি উন্নয়ন কাজ প্রক্রিয়াধীন। সেখানে যানবাহন পার্কিং করার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও হয়নি। এখন এসব যানবাহন যদি রাস্তায় রাখা হয় তাহলে করপোরেশন ও বিভিন্ন সংস্থার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মুখোমুখিও হতে পারে।’

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব একেএম টিপু সুলতান বলেছেন, ‘জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে যে আদেশ জারি করা হয়েছে তা সবার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। এ বিষয়গুলো বাস্তবায়নে কোনো ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত