বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে জায়েদ খান টাকা দিয়ে ভোট কিনেছেন এমন অভিযোগ ভোটের দিনই তুলেছেন সাধারণ সম্পাদক পদে পরাজিত প্রার্থী চিত্রনায়িকা নিপুণ।
রবিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে কাঞ্চন-নিপুণ পরিষদের নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে নিপুণ টাকা দিয়ে ভোট কেনার একটি ভিডিওর কথা বলেন। যে ভিডিওতে নায়িকা মুনমুনকে জোয়েদ খান টাকা দিয়ে ভোট কিনছেন বলে অভিযোগ করেন নিপুণ।
পরে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন জায়েদ খান। তিনি বলেন, আপনারা ভিডিওটা জুম করে দেখেন। তিনি কি করছেন। মুনমুন আপা আসলেন, আমি তাকে জড়ায়ে ধরে ভোট চাইলাম। ভোট চাওয়া আমার অধিকার। তাকে ভাঁজ করা প্যানেলের লিফলেট দিয়ে সিল দেয়ার কথা বললাম। তিনি জানতে চাইছিলেন, টিক দেবেন। আমি বললাম, এবার টিক না, এবার সিল দিতে হবে।
পরে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে ফেইসবুক লাইভে এসে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন মুনমুন। তিনি বলেন, ‘এটা স্রেফ অপপ্রচার। ইউটিউবার আমাদের বদনামের মধ্যে ফেলছে; যারা অপপ্রচার চালিয়েছে আমি তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।
মুনমুন দাবি করছেন, জায়েদ খানের সঙ্গে কুশল বিনিময়ে ফাঁকে ব্যাগের মধ্যে ‘কোনো নোট নয়, নিজের ব্যবহৃত কালো মাস্কটি’ পুরেছিলেন তিনি।
মুনমুন বলেন, ‘আমাকে একটি এলিগেশনের মধ্যে ফেলানো হয়েছে যে, আমি টাকা নিয়ে ভোট দিয়েছি। আমার প্রশ্ন হল, রাস্তার মধ্যে কেউ আমাকে টাকা দেবে, সেটা খেয়ে আমি ভোট দেব? আমার নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি কালো পোশাক পরিহিত ছিলাম। এফডিসিতে প্রবেশ করার পরে আমার মুখে মাস্ক ছিল। আপনারা ভিডিওটা ভালো করে খেয়াল করলে বুঝবেন।... আমার মাস্কটা মুখের ওপর ছিল। ঢুকে মাস্কটা খুলে ব্যাগে রেখেছি। পরে জায়েদ আমাকে একটা পেপার দিল।’
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমি কি রাস্তার লোক? জায়েদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভোট দেব? জায়েদ আমার ছোট ভাইয়ের মত; সে আমার কাছে এসে ভোট চেয়েছে। এটা কী মহাপাপ?’
উল্লেখ্য, ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চলচ্চিত্রশিল্পী সমিতির ৪৪ অভিনয়শিল্পী ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ৪২৮ জন ভোটার ২২ জনকে প্রার্থীকে বেছে নিয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে অভিনেতা মিশা সওদাগর এবং সাধারণ সম্পাদক পদে চিত্রনায়ক জায়েদ খান এক প্যানেল থেকে নির্বাচন করেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলে সভাপতি পদে অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তার নির্বাচন করেন।
