সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার অফিস অনিয়ম- দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলেন, এক শ্রেণির দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সেবা প্রত্যাশীরা।
অভিযোগে বলা হয়, কিছু সংখ্যক দলিল লেখক দ্বারা গঠিত সিন্ডিকেটের যোগসাজশে সাব-রেজিস্ট্রার হাসানুজ্জামান জড়িয়ে পড়েছেন নানা অনিয়মে।
ভুক্তভোগী নাজমা খাতুন জানান, খোদেজা খাতুন ২৯/০১/১৯৯১ সালে আজগর আকবরের কাছে জমি বিক্রি করেন। ৪০ নম্বর খতিয়ান গাড়ামাসী মৌজায় মামলা থাকা সত্ত্বেও সেই জমি পুনরায় ১২/৪/২০২১ তারিখে বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার হাসানুজ্জামান এসে অন্য আরেক ব্যক্তির কাছে বিক্রির রেজিস্ট্রি করেন। জমির খাজনার চেক ছাড়াই হাসানুজ্জামান রেজিস্ট্রি করে দেন।
আরেক ভুক্তভোগী মো. আবুল হাসেম এ প্রতিবেদককে জানান, তিন মাস আগে মুকুন্দগাতী মৌজার সাড়ে তিন শতাংশ জমি ক্রয় করি। জমিদাতা মেজর নুর ইসলাম ঢাকায় অবস্থান করায় শুধু কমিশন করার জন্য আমার কাছ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা নেন সাব-রেজিস্ট্রার হাসানুজ্জামান। এ রকম কমিশনের নামে অবৈধভাবে বেশি টাকা ফি নিয়ে অনেক জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন।
আরো অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার হাসানুজ্জামান সিন্ডিকেটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন দেখিয়ে, সাব-কবলা দলিলের পরিবর্তে হেবাবিল এওয়াজ, অসিয়ত নামা, ঘোষণাপত্র, আমমোক্তার নামা দলিল রেজিস্ট্রি করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। তিনি এ অফিসে যোগদানের পর থেকে দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাধ্যতামূলকভাবে প্রতি দলিল থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। এ টাকা সিন্ডিকেটের সমন্বয়ে ভাগ-বাঁটোয়ারা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, দলিলের ফি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করলেও শেরেস্তা (অতিরিক্ত ফি) ছাড়া সাব-রেজিস্ট্রার কোনো দলিল রেজিস্ট্রি করে না। তার চাহিদা মতো টাকা না পেলে বিভিন্ন কাগজপত্রের ভুল-ত্রুটির কথা বলে হয়রানি করা হয়। আবার টাকা পেলে সব বৈধ হয়ে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দলিল লেখক এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, সেরেস্তা না দিলে জমি রেজিস্ট্রি তো দূরের কথা সীমাহীন হয়রানির স্বীকার হতে হয় ভুক্তভোগীদের। তাই বাধ্য হয়েই সেরেস্তা (অতিরিক্ত ফি) দিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করতে হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার হাসানুজ্জামান বলেন, অফিসে কোনো সিন্ডিকেট নেই। দলিল লেখকের মাধ্যমে আমার নিকট দলিল আসে।
সেরেস্তা আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, অফিসে কোনো সেরেস্তা আদায় করা হয় না। দলিল লেখকরা চুক্তি করে দলিল রেজিস্ট্রি সরকারি মূল্যের বেশি টাকা নিয়ে থাকে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান।
