লাকীর আর্থিক অনিয়মে বিভক্ত সাংস্কৃতিক অঙ্গন

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:৫৫ এএম

শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক (ডিজি) লিয়াকত আলী লাকীর আর্থিক অনিয়ম নিয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিভক্তি বাড়ছে। সংস্কৃতিকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়াও বিভিন্ন ফোরামে পক্ষে-বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান জানাচ্ছেন। এতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উন্মোচনের দাবি জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।

গত ২ জানুয়ারি লিয়াকত আলী লাকীর আর্থিক অনিয়ম অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরপর ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদ ও অর্থ সম্পাদক রফিক উল্লাহ সেলিমকে সংগঠন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনেরও সভাপতির দায়িত্বে থাকা লিয়াকত আলী লাকী তাদের অব্যাহতি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে সংস্কৃতি অঙ্গন। বিরাজ করছে চাপা উত্তেজনা। স্বাভাবিক সংস্কৃতিচর্চা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে কামাল বায়েজীদ বলেন, ‘ফেডারেশনের সভাপতি লিয়াকত আলী লাকীর দুর্নীতি বিষয়ে দুদকে অনুসন্ধান চলছে। পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে লেখালেখি হওয়ায় আমি তাকে মৌখিকভাবে কিছুদিন সংগঠনের কাজ থেকে বিরতি নেওয়ার পরামর্শ দিই। এ কারণে তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।’

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরে বলে আসছি, শিল্পকলার মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকার পরও লাকীর গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্বে থাকা ঠিক নয়। এখন তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আসায় কিছুটা অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখনো তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি কিংবা দুদক থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। ফলে আমাদের সবাইকে এ বিষয়ে অপেক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে লাকীকেও প্রমাণ করতে হবে যে তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ মিথ্যা।’

কামাল বায়েজীদের অনুসারীরা লাকীকে দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে নানারকম পোস্ট লিখছেন ফেইসবুকে। তার পাল্টা জবাবও দিচ্ছেন লাকীর অনুসারীরা। এতে দিন গড়ানোর সঙ্গে বৈরী পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। যদিও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ মনে করেন, এ ঘটনায় সংস্কৃতি অঙ্গনে কোনো বিভাজন নেই। সংস্কৃতিকর্মীরা সবসময় সত্যের পথে আছে এবং থাকবে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিল্পকলা একাডেমি পরিচালিত হয় পরিচালনা পরিষদ সভার মাধ্যমে। তবে শিল্পকলার কর্মকাণ্ড অনেক দিন ধরেই লিয়াকত আলী লাকীর একক সিদ্ধান্তে পরিচালিত হয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একাডেমির মহাপরিচালকের বিষয়ে অগ্রজ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শিল্পকলা একাডেমির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য রামেন্দু মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিল্পকলা একাডেমিতে কী হচ্ছে, না হচ্ছে তা অনেক দিন ধরেই পর্ষদ অবগত নয়। মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, সেটা এখনো তদন্তানাধীন। আমরা পর্ষদের বৈঠকে অনেকবার বলেছি, একাডেমির বিষয়ে জানতে চেয়েছি। তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।’

আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহ্কাম উল্লাহ বলেন, ‘লিয়াকত আলী লাকী সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছেন। এখন তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, তার তদন্ত চলছে। আমরা আশা করব, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য বেরিয়ে আসবে।’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘অভিযোগ আসা মানেই কারও দুর্নীতি প্রমাণ হয়ে যায় না। দুদক অনুসন্ধান করছে, সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি পরিষ্কার করা দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে এ বিষয়ে আমরাও বিব্রত। তবে এটুকু বলতে পারি, সংস্কৃতিকর্মীরা সবসময় সত্যের পক্ষে। কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণিত হলে অবশ্যই তার শাস্তি হওয়া উচিত।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত