শীতে ধুলোবালির প্রকোপ বেড়ে যায়। ডাস্ট অ্যালার্জি এর প্রতিক্রিয়া। রাইনাইটিস, কনজাংটিভাইটিস (চোখ ওঠা), একজিমা (চামড়ার রোগ) এবং অ্যাজমা (হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট), ধুলোর কারণে হয়। এই উপাদানগুলো সাধারণত বাড়িতে থাকে। ডাস্টের সঙ্গে ক্ষুদ্র পোকামকড় থাকে। এই পোকাগুলোকে ডাস্ট মাইটস বা ধুলোর পোকা বলা হয়। এগুলো আকারে অণুবীক্ষণিক হয় এবং খালি চোখে দেখা যায় না। সারা বিশ্বে প্রায় ৮৬% অ্যাজমা রোগী (হাঁপানি রোগী) ডাস্ট মাইটসের অ্যালার্জিতে আক্রান্ত।
লক্ষণ
ডাস্ট অ্যালার্জির অ্যালার্জেন বাড়িতে আর্দ্র পরিবেশে বড় হয় এবং ভেতরের পরিবেশের সঙ্গে খুব ভালোভাবে মানিয়ে নেয়। যদি কারো ডাস্ট অ্যালার্জির প্রবণতা থাকে তাহলে তিনি নিম্নলিখিত উপসর্গগুলোর মধ্যে একটি বা অনেকগুলো (উপসর্গ) অনুভব করতে পারেন :
সর্দি বা নাক দিয়ে জল পড়া, চোখে জ্বালা বা চুলকানি এবং জলপূর্ণ চোখ, চামড়ায় জ্বালা বা চুলকানি, বন্ধ নাক, ডাস্ট অ্যালার্জির দ্বারা সৃষ্টি করা অ্যাজমার (হাঁপানি রোগের) নিম্নলিখিত উপসর্গগুলো আপনি অনুভব করতে পারেন
শ্বাস নিতে কষ্ট
বুক থেকে শাঁ শাঁ করে নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ
ঘুমানোর অসুবিধা
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা
ঠিক কোন অ্যালার্জেন ডাস্ট অ্যালার্জির জন্য দায়ী তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে কিছু রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা করা প্রয়োজন। প্রচলিত পরীক্ষার সময় একটি ত্বকে ছিদ্র করে পরীক্ষা করা হয় যেখানে অ্যালার্জিকে ধরতে বাড়ির ডাস্ট মাইটের একটি নির্যাস ব্যবহার করা হয়। কতক্ষণ পর ওই জায়গায় অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া শুরু হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। কতটা জায়গা ফুলে গেছে বা লাল হয়ে গেছে তা মাপা হয়। যারা ত্বকের বা চামড়ার পরীক্ষা করাতে চান না তাদের জন্য রক্ত পরীক্ষা করানো সুবিধাজনক। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেও অ্যালার্জির নির্দেশক কিছু অ্যান্টিবডি শনাক্ত করা যেতে পারে। নাকের ভেতরের মিউকোসাল বা চোখের লালভাবের একটি শারীরিক পরীক্ষা করেও অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা যেতে পারে। কোন অ্যালার্জেন ডাস্ট অ্যালার্জির কারণ তা জানতে পারলে ডাস্ট অ্যালার্জির চিকিৎসা খুব সহজ হয়ে যায়। শরীরের মধ্যস্থতাকারীর ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে, যেমন হিস্টামাইন এবং লিউকোট্রাইন, যা অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া ঘটাতে সাহায্য করে।
ইমিউনোথেরাপি
এটি চিকিৎসার নতুন পদ্ধতি যাতে রোগীর অ্যালার্জির সংবেদনশীলতার চিকিৎসা হয়। এটি দীর্ঘস্থায়ী এবং ভালো ফলাফল দেখায়।
ওষুধ
অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ওরাল স্টেরয়েডের মতো ওষুধগুলো দেওয়া হতে পারে।
কিছু প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ ধুলো এড়াতে এবং অ্যালার্জিটি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে। যেমন, বিছানার চাদর এবং বালিশের কভার গরম পানিতে ধুয়ে নিন। কার্পেট প্রতিদিন পরিষ্কার রাখুন।
