নিজেদের ও বিশ্বস্ত মিত্রের স্বার্থবিরোধী বিষয় মোকাবিলা করতে নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বহু পুরনো এ নিষেধাজ্ঞার সংস্কৃতির তালিকায় আছে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা ও দেশ। নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা নিয়েও আছে বিস্তর সমালোচনা। লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা
নেলসন ম্যান্ডেলা
১৯৬০ সাল। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে ৪০ মাইল দূরেই অবস্থিত শহর শার্পভিল। সেখানে কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের আবাসস্থলের ছোট্ট স্থানটির নাম ব্ল্যাকটাউন। দক্ষিণ আফ্রিকার বাতাসে তখন কৃষ্ণাঙ্গবিরোধী গন্ধ ভাসছে। কৃষ্ণাঙ্গদের নীচুতলার লোক হিসেবে দেখার চল এতটাই চরমে পৌঁছেছিল যে, শহরের টপভিন থেকে ১৯৫৮ সালে জোরপূর্বক কৃষ্ণাঙ্গদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এর পর থেকে থেকেই কৃষ্ণাঙ্গদের আবাসস্থল হয়ে উঠেছিল শার্পভিল। বছর দুই যেতে না যেতেই সমস্ত নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত শার্পভিল তখন বেকারত্বের উচ্চহার আর অপরাধের আখড়া নিয়ে টালমাটাল।
একটু পেছনের দিকে তাকাই। পঞ্চাশের দশক থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় সরকারি হস্তক্ষেপে কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য সুযোগ-সুবিধা সীমাবদ্ধ করে দেওয়ার চল শুরু হয়। দেশের ন্যাশনাল পার্টি সরকারের অধীনে নতুন আইন চালু করা হয়। কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য চালু হলো ‘পাশ আইন’। এ আইনের আওতায় ষোল বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের পাশবুক বহন করতে হবে। দেশটির শ্রম ব্যুরোর অধীনে কর্মক্ষেত্রের বিস্তারিত উল্লেখ থাকত পাশবুকে। শহর থেকে বের হতে গেলেই পাসপোর্টের মতো পাশবুক দেখাতে হতো। শহরের বাইরে যেতে গেলে পাশবুক সর্বোচ্চ ৩ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকত।
আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি) ‘পাস আইন’-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রচারণা শুরু করে। তাদের অধীনে সে বছরই অর্থাৎ ১৯৬০ সালের ৩১ মার্চ বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই প্যান আফ্রিকানিস্ট কংগ্রেস (পিএসি) ১০ দিন আগে অর্থাৎ ২১ মার্চে নিজস্ব প্রচারণা শুরু করে।
২১ মার্চ ৫-১০ হাজার লোকের একটি দল স্থানীয় থানায় জমায়েত হয়। নিজেদের কাছে পাশবুক না থাকায় নিজেরাই থানায় হাজির হয়ে গ্রেপ্তার করার দাবি জানায়। শার্পভিলের পুলিশ এ বিক্ষোভের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত ছিল না। পিএসি সক্রিয়ভাবে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য সংগঠিত, প্রচারপত্র বিতরণ এবং প্রতিবাদের দিনে কর্মস্থলে না যাওয়ার জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে।
এদিকে নিজেদের ক্ষোভে হোক, পিএসির চাপে হোক যেভাবেই হোক না কেন সকাল ১০টা নাগাদ পুলিশ স্টেশনে লোক জড়ো হতে থাকে। ২০ জন পুলিশ কর্মকর্তার সামনে প্রায় ২০ হাজার লোক জড় হয়ে যায়। পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যেতেই প্রায় ১৩০টি পুলিশ রিইনফোর্সমেন্ট, চারটি সাঁজোয়া যান আনা হয় সেখানে। একদিকে আগ্নেয়াস্ত্র অন্যদিকে সমাবেশে আসা লোকদের হাতে পাথর। জনবিক্ষোভের আগুনে ভয় পেয়ে পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলে ২৯ জন শিশুসহ মোট ৬৯ জন মারা যায় আর আহত হয় ১৮০ জন।
তাৎক্ষণিকভাবে ফুঁসে ওঠে জনতা। পরের সপ্তাহে দেশের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। ৩০ মার্চ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সরকার। আটক করা হয় ১৮ হাজার লোক। তার ভেতরে বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাও ছিলেন। দেশটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ১৯৬০ সালের ১ এপ্রিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাব ১৩৪ পাস করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ১৯৬১ সালে কমনওয়েলথ অব নেশন থেকেই বিদায় দেওয়া হয় দেশটিকে।
এদিকে দেশটির সরকার পিএসি ও এএনসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ফলে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যেতে বাধ্য হয় সব নেতাকর্মী। শান্তিপূর্ণ অহিংস প্রতিরোধের পথ এবারে সহিংস হয়ে ওঠার পথে। বলা যায় শান্তিপূর্ণ আলোচনার সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে যাওয়াতেই সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নিতে হয় তাদের। শার্পভিল গণহত্যার পরপরই সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অপরাধে ১৯৬০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন ম্যান্ডেলা। প্রায় ৪ বছর আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকার পর ১৯৬৪ সালে নাশকতার ও রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন ম্যান্ডেলা। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত কারারুদ্ধ করা হয় তাকে।
ম্যান্ডেলা নেই তাই বলে তার দলীয় কর্মীরা কিন্তু বসেছিলেন না। তারা তাদের সশস্ত্র কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকেন। এদিকে এএনসির নেতাকর্মীদের অর্থের জোগান দিয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়ন। ফলে সোভিয়েত-মার্কিন টানাপড়েনের বলি হতে হয় ম্যান্ডেলাকে। ১৯৮৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিগানের প্রতিরক্ষা বিভাগ এএনসিকে আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
ম্যান্ডেলা তখনো জেলে। কারাগারে থেকেও তিনি তার দলের কর্মকাণ্ডকে পরোক্ষভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু বর্ণবাদবিরোধী যেকোনো বিষয়ে ম্যান্ডেলা হয়ে ওঠেন পৌরাণিক চরিত্র। কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণা, আর শ্বেতাঙ্গদের জন্য বর্ণবাদবিরোধী বিবেচনা। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন তার বন্দিদশা তাকে দেশ নিয়ে ভাবার বা কথা বলার নৈতিক শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।
১৯৮৬ সালে তিনি জেল থেকে একটি চিঠি লেখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পি ডব্লিউ বোথার কাছে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলচনার প্রস্তাব রাখেন। প্রেসিডেন্ট বুঝতে পারেন বর্ণবাদী আইন আর চিন্তা থেকে খুব বেশিদিন দেশ চালাতে পারবেন না তিনি। একদিকে এএনসি আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের মাথায় দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বেগতিক করে রেখেছে অন্যদিকে বর্ণবাদ তার অন্তর্নিহিত দুর্বলতায় ভেঙে পড়ছে। এদিকে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবধারা নষ্ট করছে। সব মিলিয়ে দেশ ও বিদেশে দক্ষিণ আফ্রিকা বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিল। ম্যান্ডেলার প্রয়োজন বুঝতে পেরে কারাগার থেকে বের করে আনা হয় থাকে। প্রায় ৩০ বছর কারাবাসের পর তিনি বেরিয়ে আসেন দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে। ১৯৮৯ সালের জুলাই মাসে কেপটাউনে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ম্যান্ডেলার সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রেসিডেন্ট বোথা। যৌথ বিবৃতিতে দুজনেই ঘোষণা করেন, শান্তির জন্য তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন নেলসন ম্যান্ডেলা। তখনো পর্যন্ত তার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়নি। ২০০৮ সালের এপ্রিল মাসে স্টেট সেক্রেটারি কন্ডোলিৎসা রাইস এক ভাষণে ম্যান্ডেলার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, এখন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সময় এসেছে কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক সময় দক্ষিণ আফ্রিকার চমৎকার সম্পর্ক ছিল। আর সমকক্ষদের ক্ষমা করে দেওয়ার বিষয়টি বিব্রতকর। সে বছর জুলাই মাসে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ এক বিল স্বাক্ষর করে ম্যান্ডেলার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।
হুয়াওয়ে
বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানিগুলোর একটি হুয়াওয়ে। ২০১৯ সালের মে মাসে চীনা এই সংস্থাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তোপের মুখে পড়েছে। কথ্য ভাষায় যাকে ‘হুয়াওয়ে নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা পরে হুয়াওয়ের সঙ্গে গুগল, কোয়ালকম ও ইন্টেলের মতো সংস্থাগুলোর সঙ্গেও গড়ায়। কিন্তু কেন এই নিষেধাজ্ঞা?
চীনের পিপলস লিবারেশন পার্টি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর রেন ঝেংফেই ১৯৮৭ সালে হুয়াওয়ে প্রতিষ্ঠা করেন। সামরিক ইতিহাস ঝেংফেইকে বড় কিছু চুক্তি পেতে সাহায্য করেছিল। অন্যের মেধাস্বত্ব চুরির দায়ে বারবার তদন্তের মুখোমুখি হয়েছে হুয়াওয়ে। বেশ কয়েকবার মার্কিন প্রতিষ্ঠানই হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও মামলা দায়ের করেছে। ২০০৩ সালে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিসকো দায়ের করা মাললায় অভিযুক্ত হয় হুয়াওয়ে। তা সত্ত্বেও ২০০০ সালের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্যভাবে বড় হতে শুরু করে। স্মার্টফোন তৈরি করা শুরু করতেই এর জনপ্রিয়তা যেন আকাশ ছুঁয়ে ফেলার জোগাড় হয়। ন্যায্যমূল্যের ডিভাইসের হাত ধরে ২০১৬ সালে স্মার্টফোন নির্মাতা এ কোম্পানি ঘোষণা দিয়ে বসে, ৫ বছরের মধ্যে এটিই হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
২০১৮ সালে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন ও চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ মোকাবিলায় তিনি চীনবিরোধী হয়ে ওঠেন। সমালোচকদের ভাষায় এ যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়কেই আঘাত করবে। যদিও বাণিজ্য ুদ্ধের সঙ্গে রাজনীতি, শুল্ক ও আন্তর্জাতিক আইনের অনেক সম্পর্ক রয়েছে তবে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি চুরির বিষয়টিকে বরাবরই ভিন্নভাবে দেখে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। বারবার আইপি চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে হুয়াওয়ে তাই রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দিকটি খতিয়ে দেখতে বাধ্য হয় দেশটির সরকার।
ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশে ২০১৯ সালের ১৫ মে জারি করা হয়, জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত বিদেশি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে টেলিযোগাযোগ সরঞ্জামের ব্যবহার। এ আদেশে সরাসরি হুয়াওয়ের নাম না এলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হুয়াওয়ের টেলিকম অপারেশনগুলোর দিকে আঙুল নির্দেশ করছিল। ট্রাম্পের এ ঘোষণার ঠিক পরপরই গুগল প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয় যে, হুয়াওয়ের সঙ্গে তারা কাজ করবে না এবং ট্রাম্পের ঘোষণা মেনে চলবে তারা। ফলে বিশ্বজুড়ে হুয়াওয়ের ফোনে গুগলের এক্সেস বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় পায় সবাই। আর গুগলের এক্সেস বন্ধ হয়ে যাওয়া মানেই জিমেইল, ইউটিউব, গুগল ড্রাইভ এমনকি গুগল প্লে-স্টোর থেকেও কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারবেন না হুয়াওয়ের গ্রাহকরা।
পরিস্থিতি শান্ত হলে গ্রাহক ও হুয়াওয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই বুঝতে পারেন, মে মাসের আগ পর্যন্ত হুয়াওয়ের সব ফোনে গুগল কাজ করবে কিন্তু এরপর থেকে আর কোনো ফোনে গুগল কাজ করবে না। গুগলের এ ঘোষণার পর পরই কোয়ালকম, ইন্টেল, আর্ম, মাইক্রোসফট এবং আরও কিছু প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থেকে সরে আসে।
২০২০ সালে হুয়াওয়ে যেন তার ভাগ্যকে মেনে নিয়ে বসে ছিল। এটি আত্মপক্ষ সমর্থন করে মামলা দায়ের করা বন্ধ করে দিয়েছিল। ২০২১ সালে হোয়াইট হাউজ থেকে ট্রাম্পের প্রস্থানের সঙ্গে সঙ্গে তারা নতুন করে চেষ্টা শুরু করে। হুয়াওয়ে প্রতিষ্ঠাতা রেন ঝেংফেই বলেছেন, তিনি বাইডেনের সঙ্গে আলোচনাকে স্বাগত জানাবেন।
ইরান
১৯৭৯ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, বৈজ্ঞানিক, সামরিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। মার্কিন যেকোনো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পরিচালনা করে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সংস্থা ফরেন অ্যাসেট কন্ট্রোল। বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো লেনদেন, ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর বিমান ও মেরামতের যন্ত্রাংশ বিক্রির ওপরে নিষেধাজ্ঞা।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, হিজবুল্লাহ, হামাস ও প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদের প্রতি ইরানের সমর্থনের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ সংগঠনগুলোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া ও হুথিদের প্রতি ইরানের সমর্থনের বিষয়টিও বিতর্কিত। ১৯৯৭ সালে ইরানের সংস্কারপন্থি প্রেসিডেন্ট খাতামি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেন। তখন ফার্মাসিউটিক্যালস, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ক্যাভিয়ার ও পার্সিয়ান রাগের মতো পণ্যের ওপরে নিষেধাজ্ঞা হ্রাস করা হয়েছিল। বুশ প্রেসিডেন্সির আমলে নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার হয়। ইরানের বৈজ্ঞানিক পা-ুলিপিও সম্পাদনা বা প্রকাশের বিরুদ্ধে রায় দেয় মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। কারণ পারমাণবিক অস্ত্রে ইরান অন্যান্য দেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে সেই ভয়ে। মার্কিন এই রায়ের পরপরই ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স সাময়িকভাবে ইরানি গবেষকদের পান্ডুলিপি সম্পাদনা বন্ধ করে দেয়। এদিকে প্রেসিডেন্ট বুশ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সম্পদ জব্দ করার নির্বাহী আদেশ জারি করেন। ওবামা প্রশাসন নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়িয়ে তোলে। ইরানি রাগ, পেস্তা বাদাম ও ক্যাভিয়ারের মতো জিনিসপত্রের ক্ষেত্রে আমদানির পূর্ব অনুমোদন প্রত্যাহার করে। একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরান পালটা অভিযোগ না জানিয়ে, শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজতে চেয়েছে।
