স্বর্ণ আমদানি শুরুর পর চোরাচালান বন্ধের আশা করা হলেও এখনও তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। তিনি বলেছেন, স্বর্ণ আমদানিতে সাড়া নেই, স্মাগলিংয়েও ভাটা পড়েনি।
শনিবার ঢাকার সেগুনবাগিচার এনবিআর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ইএফডি লটারির ড্র অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সংশয় প্রকাশ করেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, স্বর্ণ আমদানির বিষয়ে আমরা গত দুই বছরে নানাভাবে নীতিসহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, যাতে স্বর্ণ আমদানি হয়; স্মাগলিং যেন বন্ধ হয়। আমি জানি না- তার পরও কেন স্বর্ণ আমদানিতে তেমন সাড়া দেখা যাচ্ছে না, স্মাগলিংয়েও তেমন ভাটা পড়েনি।
এখনও স্বর্ণের বড় বড় চালান ধরা পড়ার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, গোল্ড স্মাগলিংটাকে ঠেকানো, এটা আমাদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গোল্ড স্মাগলিংয়ের সঙ্গে শুধুমাত্র দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জড়িত নয়, গোল্ড স্মাগলিংয়ের নানাবিধ কারণ আছে।
মুনিম বলেন, এটার সঙ্গে (চোরাচালান) দেশীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা হয়ত জড়িত নয়। এরসঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে ও বাইরে অনেক অবৈধ ব্যবসায়ী জড়িত।
তিনি মনে করেন, অবৈধ নানা কাজে জড়িতদের পেইমেন্টের মাধ্যম গোল্ড হয়। সেই কারণে গোল্ড স্মাগলিং শুধু রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার জন্য, হয়ত তা নয়। সেজন্য গোল্ড স্মাগলিং সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যাবে কি না জানি না। নানাভাবে স্মাগলিং হচ্ছে এটা হচ্ছে বাস্তব বিষয়।
তবে রাজস্ব ভারের কারণে স্মাগলিংয়ের প্রবণতা হচ্ছে কি না সেটাকে আমরা দেখার চেষ্টা করছি উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী বাজেটে স্বর্ণ আমদানি সহজ করতে আরও কিছু করা যায় কি না, সে বিষয়ে সরকার চিন্তা করবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির (বাজুস) সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলিপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, বিদেশ থেকে বৈধভাবেই কেউ ব্যাগে করে স্বর্ণ নিয়ে আসলে প্রতি ভরিতে ভ্যাট দিতে হয় মাত্র ২ হাজার টাকা। আর একজন ব্যবসায়ী স্বর্ণ আমদানি করলে ৭ হাজার টাকার ভ্যাট দিতে হয়। এই অসম প্রতিযোগিতার কারণেই দেশে বৈধ পথে স্বর্ণ আমদানি কম হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
তবে এ পর্যন্ত ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ১০০ কেজির মতো স্বর্ণ আমদানি করেছে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে ইএফডি মেশিনের মাধ্যমে ভ্যাট সংগ্রহের সময় পণ্যের মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্যাট নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “পণ্যের মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট দেওয়া থাকবে। ক্রেতা পণ্য কেনার পর আলাদা করে ভ্যাট নেওয়া যাবে না।”
অনুষ্ঠানে গত জানুয়ারি মাসে ইএফডি মেশিনের মাধ্যমে পণ্য ক্রয় করা ক্রেতাদের লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রথম পুরস্কার (একটি) এক লাখ টাকা বিজয়ী কুপন নম্বর হচ্ছে-001321HXORCQN241। দ্বিতীয় পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা (একটি) – 000821EFWKJDT392 এবং তৃতীয় পুরস্কার ২৫ হাজার টাকা বিজয়ী ৫ কুপন নম্বর হচ্ছে- 002522ZGXOPJK799, 001822GHZZPSS734, 000821TKQNEPP486, 000921WYNVGCL848, 000022VXMIOOE847।
এছাড়া চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে ৯৩ জন ১০ হাজার টাকা জিতেছেন।
