খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ সম্মাননা

যে কারণে সাড়ে ৩ বছর পর জানাল বিএনপি

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৯:৩৯ পিএম

দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘কানাডিয়ান মানবাধিকার সংস্থা-হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (সিএইচআরআইও)’ ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ (গণতন্ত্রের মা) সন্মাননা দিয়ছে বলে জানিয়েছে বিএনপি।

মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য দেন।   

এ সময় সিএইচআরআইও’র দেয়া ক্রেস্ট ও সনদপত্র সাংবাদিকদের কাছে উপস্থাপন করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে আপনাদের জানাতে চাই যে গণতন্ত্রের প্রতি খালেদা জিয়ার অসামান্য অবদান এবং তিনি যে এখনো গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য কারাবরণ করছেন, অসুস্থ অবস্থায় গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন-এসব কারণে কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল অর্গাইনাইজেশন (সিএইচআরআইও) তাকে ‘মাদার অব ডেমোক্র্যাসি অ্যাওয়ার্ড’ দিয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনও সম্মাননা প্রদানকারী সিএইচআরআইওকে গ্রহণযোগ্য সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।’

সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদে দেখা যায়, ‘ডেমোক্রেসি হিরো’ ক্যাটাগরিতে খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ পুরস্কার দেওয়া হয়। 

তাতে উল্লেখ আছে, বাংলাদেশে ও বহির্বিশ্বে অনগ্রসর জনগণের জন্য গণতন্ত্র, মানবাধিকার, শান্তি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের জন্য খালেদা জিয়াকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। ক্রেস্টে এর তারিখ উল্লেখ রয়েছে ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই।

এতদিন পর এ পুরস্কার প্রাপ্তির কথা জানানোর কারণ কী, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এর কারণটা হচ্ছে, এই সম্মাননা যখন দেওয়া হয় তখন ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) জেলে ছিলেন দুই বছর। তারপর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন কয়েকবার। এখন উনি বাসায় এসেছেন। আমরা তাকে এই সম্মাননার কথা জানিয়েছি। আপনাদেরও জানলাম।’

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যেতে হয়। দুই বছর কারাবাসের পর করোনা মহামারীর প্রাক্কালে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারের বিশেষ বিবেচনায় শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান তিনি। এরপর থেকে তিনি গুলশানের বাসায় আছেন।

এর মাঝে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৮১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর খালেদা জিয়া গত ১ ফেব্রুয়ারি তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ফিরে যান।

বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দী হওয়ার পর থেকে দলটির নেতারা বক্তৃতা-বিবৃতিতে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ বা ‘গণতন্ত্রের মা’ বলে সম্বোধন করছেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খুলনা মহানগরের এক সমাবেশে প্রথম খালেদা জিয়াকে মাদার অব ডেমোক্রেসি বলে সম্বোধন করে বলেন, ‘খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য অনেক সংগ্রাম করেছেন, অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এ জন্য তাকে আজ থেকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ উপাধি দেওয়া হলো।’

এদিকে খালেদা জিয়াকে মাদার অব ডেমোক্রেসি হিসেবে ঘোষণা দেওয়ায় আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করে পৃথক পৃথক বিবৃতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল ছাত্রদল, কৃষকদল, মহিলা দল, মৎস্যজীবী দল, জাসাস, নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব), জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। 

তারা খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করছেন।

কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশনকেও (সিএইচআরআইও) ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত