অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকায় অবস্থিত নীলিমা সমবায় সমিতির মালিক মো. মোমিনসহ ৩ জন।
বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার সময় শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার দক্ষিণ দুগলদিয়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা-পুলিশ।
কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গ্রেপ্তার আসামি মো. মোমিন ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাস্থ কদমতলী এলাকায় নীলিমা সমবায় সমিতি নামে একটি ভুয়া এনজিও গড়ে তোলেন। এলাকার সহজ সরল গরিব, দিনমজুর নারী ও পুরুষদের কষ্ট অর্জিত টাকা আসামি মোমিন মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তার নীলিমা সমবায় সমিতিতে জমা করেন।
অসহায় মানুষদের জমাকৃত প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা নিয়ে আসামি মোমিন ও তার সহযোগীরা গত বছরের ২৫ অক্টোবর কেরানীগঞ্জ থেকে পালিয়ে যায়।
এ সকল ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই বিভিন্ন জায়গায় মানুষের বাড়িতে কাজ করে, ভাত বিক্রি করে টাকা জমিয়ে মোমিনের ফাঁদে পড়ে তার নীলিমা সমবায় সমিতিতে জমা করেছেন।
মমিন পালিয়ে গেলে ভুক্তভোগীরা কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে ওইদিনই কদমতলী গোলচত্বর ঘেরাও করে আন্দোলন শুরু করে।
এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং আন্দোলনরতদের আশ্বাস দেয় যে মোমিনকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে তাদের টাকা আদায় করে দেওয়া হবে। আন্দোলনকারীরা পুলিশের উপর আস্থা রেখে তাদের আন্দোলন বন্ধ রাখে।
এ বিষয়ে পরবর্তীতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ দুটি মামলা হয় এবং মোমিনকে গ্রেপ্তার করার সর্বাত্মক চেষ্টা শুরু করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা-পুলিশ।
ধূর্ত মোমিন অসংখ্য লোকের টাকা মেরে এতটাই কৌশলী হয় যে তিনি বিভিন্ন জায়গায় একটা করে বিয়ে করে সেখানে অবস্থান করা শুরু করেন।
সর্বশেষে শরিয়তপুরের নতুন আরেকটি বিয়ে করে ওখানে অঢেল সম্পদ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন মোমিন। কিন্তু তার শেষ রক্ষা হয়নি।
কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবীরের দিকনির্দেশনায় ও তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে বুধবার রাত দেড়টায় সময়ে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার দক্ষিণ দুগলদিয়া গ্রাম হতে মোমিন ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারের পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসা বাদে মোমিন, টাকা আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করেছে, এবং তার কেনা জমি বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিয়ে দেবে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে ।
কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবীর আরও জানান, প্রতারক মোমিনকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। তাকে গ্রেপ্তারের পরে তিনি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তার কোন কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে সে তথ্য সে আমাদের দেননি। আমরা কেরানীগঞ্জের প্রতিটি ব্যাংকে তাকে নিয়ে গিয়ে তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য আদায়ের চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান আছে।
