জাল দলিলে অর্পিত সম্পত্তি হাতিয়ে নিচ্ছে চক্র

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:১২ এএম

চুয়াডাঙ্গায় সরকারি অর্পিত সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ভূমিদস্যুদের সংঘবদ্ধ একটি চক্র। অভিযোগ রয়েছে, জাল দলিল তৈরি করে সরকারি বহু পুরনো অর্পিত সম্পত্তি হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অর্পিত সম্পত্তির দিকে লোলুপ দৃষ্টি তাদের।

জাল দলিলের মাধ্যমে আদালতের রায় নিজেদের পক্ষে এনে ইতিমধ্যে জেলার বেশ কয়েকটি মূল্যবান অর্পিত সম্পত্তির রাতারাতি মালিক বনে গেছেন তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে জেলায় এ চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন মশিউর রহমান হ্যাকা নামে শহরের একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যু। তার নিয়ন্ত্রণে কাজ করে বেশকিছু সদস্য। সরকারি সম্পত্তির পাশাপাশি ওই চক্রটির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না অর্পিত সম্পত্তির পাশে থাকা ব্যক্তিগত সম্পদের মালিকরাও। বড় বাজারের একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী তাকে এসব অর্পিত সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে আর্থিক সহায়তা করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মশিউর রহমান হ্যাকা জাল দলিল ব্যবহার করে ইতিমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি এমনকি ক্ষমতাসীন দলের কার্যালয়ও আদালতের রায়ের মাধ্যমে নিজের করে নিয়েছেন। শহরের মতিরাম আগরওয়ালার একটি পুরাতন ভবন অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে নিজের করে নেওয়ার চেষ্টা করে আসছেন বহুদিন ধরে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের শহীদ হাসান চত্বরের মতিরাম আগরওয়ালার বহু পুরাতন ভবনটি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে জেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করলেও মশিউর হ্যাকা চক্র জাল দলিলের মাধ্যমে এটি নিজেদের দাবি করে মামলা করেছে। অথচ মূল্যবান এ সম্পত্তির সকল নথিপত্র জেলা প্রশাসনের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। অর্পিত এ ভবনটি নিজেদের দখলে বলে ভূমিদস্যুরা অপ-প্রচারও করে যাচ্ছে।

এর আগে ২০০৩ সালে মতিরাম আগরওয়ালার অর্পিত এই সম্পত্তি জাল দলিল করে নিজেদের নামে করার অপরাধে ভূমিদস্যুদের নামে একটি চাঞ্চল্যকর মামলার রায় হয়। দুদকের করা সেই মামলায় ভূমিদস্যুদের জেল জরিমানা করা হয়। কিন্তু এখন আবারও এ অর্পিত সম্পত্তির জাল দলিল বানিয়ে নিজেদের নামে করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তারা।

চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের কাপড়ের ব্যবসায়ী শফি উদ্দিন বলেন, ‘মতিরাম আগরওয়ালার এই ভবনটি শহরের বহু পুরনো অর্পিত সম্পত্তি। সকল কাগজপত্র সঠিক থাকলেও জাল দলিল করে চিহ্নিত ভূমিদস্যুরা আদালতে মামলা করে ভবনটি নিজেদের দাবি করছে। আমাদের আদালতের ওপর আস্থা রয়েছে। অবশ্যই ভূমিদস্যুদের হাত থেকে সরকারি এই অর্পিত সম্পত্তিটি বাঁচবে।’

বড় বাজারের ব্যবসায়ী গিয়াস মিয়া বলেন, ‘মতিরাম আগরওয়ালার এ ভবনটি সরকারের কাছে থেকে আমরা লিজ নিয়ে ব্যবসা করে আসছি দীর্ঘদিন। ভবনটি হাতিয়ে নিতে যে ভূমিদস্যুরা মরিয়া হয়ে উঠেছে, তাদের সকলের ইতিমধ্যে দুদকের মামলায় জেল-জরিমানা হয়েছে।’

অভিযোগ অস্বীকার করে মশিউর রহমান হ্যাকা বলেন, ‘সম্পত্তিগুলো আমাদের পূর্বে ক্রয়কৃত। তাই আমি সম্পত্তিগুলোর মালিকানা ফিরে পেতে চাই।’

জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার লোকমোর্চার সভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক আকবর বলেন, ‘প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে জাল নথিপত্র বানিয়ে ভূমিদস্যুরা আদালতের রায় নিজেদের পক্ষে নিচ্ছে। মতিরাম আগরওয়ালার অর্পিত সম্পত্তিটিও তারা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে। জেলা প্রশাসন একটু সদয় হলেই শহরের বুকে সরকারের এ সম্পত্তিটি বাঁচবে।’

জাল দলিল করে ভূমিদস্যুদের সরকারি জমি হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ‘মতিরাম আগরওয়ালার পুরতন ভবনটি সরকারের মূল্যবান অর্পিত সম্পত্তি। এ সম্পত্তি ভূমিদস্যুদের হাত থেকে বাঁচাতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছে ভবনের সব নথি রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত