বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের ওপর চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশ বহাল থাকছে। একই সঙ্গে ওই পদে দায়িত্ব পালনে স্থিতাবস্থা চলমান রেখে হাইকোর্টের দেওয়া রুল নিষ্পত্তি করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তারের করা লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে গতকাল সোমবার এ আদেশ দেয় প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত ছয় বিচারপতির ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ।
এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে নিপুণ আক্তারকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে নির্বাচনী আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের দায়িত্ব পালনে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করতে আদেশ দেয় আদালত। পরে হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করলে গত ৯ ফেব্রুয়ারি চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে এই পদে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থিতাবস্থা দেয়। একই সঙ্গে বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানো হয়।
এরপর গত রবিবার হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন নিপুণ। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বিষয়টি আপিল বিভাগে শুনানির পর্যায়ে আসে। শুনানিতে নিপুণের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান। অন্যদিকে জায়েদ খানের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও আহসানুল করিম।
আপিল বিভাগের আদেশের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে চেম্বার আদালতের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তি করতে বলেছেন আদালত।’ তিনি আরও বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশে নির্বাচনী আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত স্থগিত ছিল। চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে নির্বাচনী আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্তটা বহাল। অর্থাৎ নিপুণ আক্তার সমিতির সাধারণ সম্পাদক। এখন এ অবস্থা কতদিন অব্যাহত থাকবে সেটা নির্ভর করছে রিট পিটিশনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির ওপর। আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) হাইকোর্টে শুনানি হবে।’
তবে নিপুণের আইনজীবীর এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন জায়েদ খানের আইনজীবী আহসানুল করিম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আপিল বিভাগের এ আদেশের ফলে হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়টির মীমাংসা হচ্ছে না এবং দুজনের কেউই এ পদে (সাধারণ সম্পাদক) বসতে পারছেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুনানিতে আমি প্রধান বিচারপতিকে বলেছি চেম্বার আদালত যে আদেশটা দিয়েছিলেন সেটা ভায়োলেট হচ্ছে। আদালত বলেছেন, বহাল থাকলে তো এটা অনুসরণ করতে হবে।’
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয় গত ২৮ জানুয়ারি। ঘোষিত ফলাফলে জায়েদ খানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। পরে আরেক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নিপুণ আপিল করলে ভোট পুনঃগণনায়ও একই ফল থাকে। এরপর নির্বাচনী আপিল বোর্ডে জায়েদ খানের প্রার্থিতার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন নিপুণ। এ নিয়ে করণীয় জানতে সমাজসেবা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠায় আপিল বোর্ড। পরে ২ ফেব্রুয়ারি সমাজসেবা অধিদপ্তর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আপিল বোর্ডকে নির্দেশ দেয়। এরপর দুপক্ষকে আলোচনার জন্য ডাকলেও ২৯ জানুয়ারির পর আপিল বোর্ডের কার্যকারিতা নেই দাবি করে ওই আলোচনায় অংশ নেননি জায়েদ খান। এরপর নিপুণ আক্তারকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে আপিল বোর্ড। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন জায়েদ খান।
