শের-ই-বাংলা মেডিকেল

সংকটের মধ্যেই ৮ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার একযোগে বদলি

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:২১ এএম

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসক সংকট চলছে। কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ ভাগ চিকিৎসকের পদ শূন্য। সেই সংকটের মধ্যেই এই হাসপাতাল থেকে জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদমর্যাদার আট চিকিৎসককে একযোগে বদলি করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার এই আট চিকিৎসককে বদলির আদেশ দিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারি করে। একই আদেশে শেবাচিম ছাড়াও বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের একজন করে মোট দুজন চিকিৎসককে বদলি করা হয়েছে।

জানা গেছে, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ এবং বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের মোট ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে। তাদের ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যোগদান করতে বলা হয়েছে। তবে হঠাৎ করে কী কারণে তাদের বদলি করা হলো সে বিষয়টি উল্লেখ নেই প্রজ্ঞাপনে।

সূত্র জানায়, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বেশ জোরালো ভূমিকা রেখে আসছিলেন অর্থ-সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. মাসরেফুল ইসলাম সৈকত। এরই মধ্যে তার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ বেশ প্রশংসনীয় হয়েছে। যার মধ্যে হাসপাতালে আসা রোগীদের বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে না গিয়ে হাসপাতালের ল্যাবে বাধ্যতামূলক পরীক্ষা করার যে নিয়মটি চালু করেছিলেন সেটি সাধারণ মহলে বেশ সাড়া ফেলে। হঠাৎ করেই তাকে বদলি করা হয়েছে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে। নারী রোগীদের আস্থা শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. তানিয়া আফরোজকেও বদলি করা হয়েছে একই হাসপাতালে।

এ ছাড়া শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. সুদীপ্ত কুমার হালদারকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল, ইএনটি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আলী আহমেদকে পিরোজপুর জেলা সদর হাসপাতালে, ইএনটির জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. জহিরুল ইসলামকে ভোলার ১২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. শরিফুল ইসলামকে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. সঞ্জয় কুমার দাসকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. জয় জাকারিয়া রবকে পটুয়াখালী জেলা সদর হাসপাতালে এবং সর্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. সুপিয়ার রহমানকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে।

শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসক সংকট চলে আসছে। শূন্য পদে চিকিৎসক পদায়নের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালি করে আসছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পদ পূরণ না করে উল্টো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বদলিতে এ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা আরও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে আগে থেকেই চিকিৎসক সংকট চলছে। তার মধ্যে একযোগে আট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বদলি নতুন করে সংকটে ফেলতে পারে। কেননা দক্ষিণাঞ্চলের সব উপজেলার রোগীই এই হাসপাতালে পাঠানো হয় বা চিকিৎসা নিতে আসে। সে ক্ষেত্রে এখানকার চিকিৎসকদের উপজেলা পর্যায়ে নিয়ে বড় কোনো লাভ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের হাসপাতালে সংকটের বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব স্যারের সঙ্গে কথা বলছি। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে নতুন করে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তারপরও বিষয়টি নিয়ে আমি পুনরায় মন্ত্রণালয়ে সচিব স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত