মান্না দের ‘কফি হাউস’ যেন সাত ন্যাকার ঘ্যানঘ্যান: সোহিনী দাশগুপ্ত

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৭:২২ পিএম

মান্না দের কিংবদন্তি গান ‘কফি হাউস’নিয়ে কলকাতা তো বটেই ঢাকাবাসীর আবেগও কম নয়। কালজয়ী সেই গান নিয়ে মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনায় উঠে এসেছেন প্রয়াত চলচ্চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের স্ত্রী সোহিনী দাশগুপ্ত। তিনি নিজেও একজন পরিচালক।

শুক্রবার ফেসবুকে ‘কফি হাউস’গানটি নিয়ে একটি পোস্ট দেন সোহিনী। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা ভীষণ লুজার সং! সাতটা ন্যাকার ঘ্যানঘ্যান। নস্টালজিয়ারও একটা স্ট্যান্ডার্ড থাকা উচিত।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারকে সোহিনী বলেন, ‘সকালে এফএম চ্যানেলে গানটি শুনতে শুনতে এ কথাগুলোই মনে হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে কথাগুলো বলেছি। এবং এগুলো আমার উপলব্ধি।’

সোহিনীর পোস্টে অনেকে সমর্থনও জানিয়েছেন। কমবেশি সকলের মতে গানটি আজকের প্রজন্মের কাছে অনেকটা ‘ম্যারমেড়ে’। অনেকের অভিযোগ- ভেতো বাঙালি এই ধরনের গান বেশি খায়!’ কারও দাবি, ‘যেমন গানের কথা খারাপ, তেমনই ফ্ল্যাট সুর।’ কেউ কেউ নচিকেতা চক্রবর্তীর গাওয়া ‘নীলাঞ্জনা’ বা ‘অনির্বাণ’কেও একই গোত্রে ফেলেছেন।

সোহিনী আনন্দবাজারকে আরও বলেন, ‘আটের দশকে প্রথম এই গান শুনেছি। ভীষণ ভালো লেগেছিল সেই সময়। যেমন সুর, তেমনই গানের কথা। স্মৃতি তার সিংহভাগ জুড়ে। আস্তে আস্তে বড় হয়েছি। বারেবারে শুনতে শুনতে মনে হয়েছে গানে যেন একটি মেয়ের সম্পর্কেই বলা হয়েছে। সেই সময় হয়তো ওই গান সমসাময়িক ছিল। এখন সম্ভবত সেই সময় আর নেই। এই প্রজন্মের নিরিখে দেখলে আমার যেমন মনে হয়েছে বাকিদেরও সেটাই বক্তব্য, গানটি কিছু হেরে যাওয়া মানুষের। কয়েক জন হতাশ মানুষের ব্যর্থতার কাহিনি এই গান। তারা তাদের দুঃখের কাঁদুনি গাইছেন!’

তার আরও দাবি, ‘কফি হাউস সব সময়েই স্মৃতি-বিজড়িত। তা বলে সেখানে শুধুই কান্না, হতাশা থাকবে? গানের পাত্র-পাত্রীরা সবাই খুবই খারাপ আছেন। ব্যতিক্রম সুজাতা। তিনি সুখে আছেন বলে তার সুখকে যেন কটাক্ষও করা হয়েছে। এটা বোধ হয় একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

সোহিনী বলেন, ‘স্বাধীন মতপ্রকাশের জায়গা থেকেই ফেসবুকে এই মন্তব্য লিখেছি। সুরকার, গীতিকার বা গায়ককে আক্রমণ করতে নয়। পুরোটাই করেছি মজার ছলে।’

মজার ছলেই যদি আগামী প্রজন্ম বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের কোনও কাজকে একই ভাবে ব্যাখ্যা করেন, এমন প্রশ্নের জবাবে সোহিনী বলেন, ‘আমি বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের স্ত্রী বলেই কি পরিচালকের নাম উঠে এল?’

তিনি বলেন, ‘এই সমালোচনা সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। একটি শিল্প সবার জন্য। তাকে ঘিরে ভালো লাগা বা মন্দ লাগা থাকবেই। সেটা বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের কাজ হতে পারে। কিংবা মৃণাল সেন, সত্যজিৎ রায়ের।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত