অবৈধ গাছ কিনলে শাস্তি বেশি নারী-শিশু কিনলে কম

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:৫১ পিএম

চীনে অবৈধ উপায়ে কোনো গাছ কেনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। বিলুপ্তপ্রায় কিংবা ঝুঁকিতে থাকা কোনো প্রাণী কিনে ধরা পড়লেও শান্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দেওয়া হয়। কিন্তু কেউ যদি পাচার করা নারী বা শিশু কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত থাকে, সেক্ষেত্রে তাকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আবার পাচারের সঙ্গে যুক্ত অপরাধী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে, তার কাছে ওই শিশু ও নারী থাকাকালে তাদের কোনো ক্ষতি হয়নি, তাহলে শাস্তির মেয়াদ আরও কমে যায়। গত মাসে অনলাইনে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, মধ্যবয়স্ক এক নারীকে একটি কুঁড়ে ঘরে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছে তার স্বামী। ওই ঘটনায় গোটা চীনে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়। কর্র্তৃপক্ষ চীনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ জিয়াংশুর শুঝৌ শহর থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে। পরে কর্র্তৃপক্ষ জানায়, ওই নারীর ১৯৯৮ সালে বৈধভাবে বিয়ে হয়েছিল এবং তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। আট সন্তানের জননীকে তার স্বামী পাচার করে আনেননি।

কিন্তু প্রতিবাদী জনগণের তীব্র চাপে ওই নারীর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপরাধ হিসেবে বলা হয়, ওই ব্যক্তি তার স্ত্রীকে অমানবিকভাবে বন্দি করে রেখেছিলেন। কিন্তু এই একটি ঘটনার ভিডিও চীনের বাল্যবিবাহ, নারীর অধিকার এবং মানসিকভাবে অসুস্থদের সুরক্ষাসংক্রান্ত বিতর্ককে উসকে দেয়। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় চীন এক সন্তান নীতির আওতায় থাকায় দেশটির জনগণের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী এক পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অবৈধভাবে মেয়ে শিশুদের ধরে এনে বড় করে তোলা হয় ভবিষ্যৎ স্ত্রী হিসেবে।

পেইচিংয়ের সিংগুয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হুয়াঙ ঝংলিং এক গবেষণার অধীনে ২০০০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে এক হাজারটি মামলার নথি দেখতে পান। সেখানে দেখা যায়, পাচারে জড়িত অধিকাংশ পুরুষই খুব বেশি পড়ালেখা করেননি। এদের কাছ থেকে যারা নারী ও শিশু কেনেন তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিজের বংশ রক্ষার জন্য এমনটা করেন। চীনের অপরাধসংক্রান্ত আইন অনুসারে, নারী ও পাঁচ বছরের নিচে বয়সী শিশুদের অপহরণ বা পাচার করা হলে এর শাস্তি পাঁচ বছর থেকে যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু অবৈধ গাছ বা প্রাণীর ক্ষেত্রে যেমন ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই শাস্তি দেওয়া হয়। নারী ও শিশুর ক্ষেত্রে শুধু ক্রেতাকেই শাস্তির আওতায় আনা হয়। বিক্রেতা পায় নামমাত্র শাস্তি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত