চট্টগ্রামে মিতু হত্যা

পিবিআইর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নারাজি মিতুর বাবার

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:২৫ এএম

সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজি আবেদন দাখিল করেছেন মামলার বাদী ও মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। পিবিআইর পরিবর্তে তিনি র‌্যাব অথবা সিআইডিকে দিয়ে মামলাটি তদন্তের আবেদন করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হালিমের আদালতে এই নারাজি আবেদন দাখিল করেন পুলিশের সাবেক এই সদস্য। 

মোশাররফের আইনজীবী আহসানুল হক হেনা বলেন, প্রথমে মিতু হত্যার ঘটনায় ওনার স্বামী বাবুল আক্তার অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের দায়ী করে একটি মামলা করেছিলেন। মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছে। রিপোর্টে বাবুল আক্তারই খুনের সঙ্গে জড়িত বলে জানায় পিবিআই। তখন বাবুল আক্তার নারাজি দিলেন। আদালত সেটা গ্রহণ না করে পুনঃতদন্তের আদেশ দিয়েছে। কিন্তু যখনই বাবুল আক্তারের জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণের কথা আদালতকে জানায় পিবিআই। তখনই তো নতুন মামলার ভিত্তি তৈরি হয়ে যায়।

তিনি বলেন, পরে স্বাভাবিকভাবেই মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাবুল আক্তারকে আসামি করে মামলা করলেন। ওই মামলায় সাক্ষী-আসামিসহ কয়েকজনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নিয়ে আবারও পিবিআই ওই মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেয়। তখন বাদীর সঙ্গে পিবিআই একবারও কথা বলল না। এখন বাদী কেন, সেটা মানবেন? তাই তিনি নারাজি আবেদন দিয়েছেন। পাশাপাশি মামলাটি পিবিআইর পরিবর্তে র‌্যাব কিংবা সিআইডিকে দিয়ে তদন্তের জন্য আবেদন করেছেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ৬ মার্চ মামলার নথিসহ শুনানির সময় নির্ধারণ করেছে আদালত।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ওআর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে মাহমুদা খানম মিতুকে গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়। স্ত্রী নিহতের ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যামামলা দায়ের করেন। নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাত ঘুরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। প্রায় দেড় বছর পর গত বছরের ১১ মে বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। তদন্তে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এসময় বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের লক্ষ্যে ওই মামলার ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় পিবিআই।

পরদিন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি এবং তার সোর্স কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, এহতেশামুল হক প্রকাশ ভোলাসহ আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় বাবুলকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত