নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিতে গঠিত সার্চ (অনুসন্ধান) কমিটি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে ১০ জনের নাম জমা দেবে আজ বৃহস্পতিবার। এর আগে গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের জাজেস ভবনে সর্বশেষ সভায় সার্চ কমিটি যাচাই-বাছাই শেষ করে যোগ্য হিসেবে ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করে। ওই ১০ জনের নাম আজ বিকেলে রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দিতে বঙ্গভবনে যাবে সার্চ কমিটি।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সার্চ কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে অন্য সদস্যরা বৃহস্পতিবার বিকেলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে চূড়ান্ত করা ১০ জনের নাম জমা দেবেন।
বিভিন্ন মহল থেকে চূড়ান্ত করা নামগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশের দাবি উঠলেও এ দাবি উপেক্ষিতই রয়ে গেল। এ সম্পর্কে সার্চ কমিটির সভাপতি বিচারপতি ওবায়দুল হাসান গত ২০ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকদের জানান, চূড়ান্ত ১০ জনের নাম তারা প্রকাশ করবেন না। রাষ্ট্রপতি যদি মনে করেন প্রকাশ করতে পারেন।
তবে এরই মধ্যে বেশ কিছু নাম গণমাধ্যমের খবরের সূত্রে আলোচনায় এসেছে। আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছে ড. মোহাম্মদ সাদিক, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভুইঞা ও শফিউল আলম, সাবেক সচিব কাজী হাবীবুল আউয়াল, আবদুল করিম, সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান ইকবাল করিম ভুঞা, সাবেক সচিব উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত, সাবেক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, সাবেক নির্বাচন কমিশন সচিব আবুল কাশেম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদের নাম।
সার্চ কমিটির চূড়ান্ত ১০ জনের নামের তালিকায় এ নামগুলো রয়েছে কি না সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এ নামের তালিকা থেকেই সিইসি বা অন্যান্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন।
সূত্রমতে, সিইসি হিসেবে সার্চ কমিটি আমলাদের গুরুত্ব দিয়েছে। সার্চ কমিটি আরও গুরুত্ব দিয়েছে সাবেক বিচারপতি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, নাগরিক সমাজের ব্যক্তিদের মধ্য থেকে কাউকে কাউকে।
গত মঙ্গলবার পর্যন্ত সার্চ কমিটি সাতটি বৈঠক করেছে। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে চার দফা বৈঠক করেছে। সার্চ কমিটির আহ্বানে রাজনৈতিক দল, ছয়টি পেশাজীবী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের কাছ থেকে নাম প্রস্তাব আসে। প্রস্তাবিত নাম প্রকাশও করা হয়েছে।
স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে দেশে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে আইন করেছে। মূলত সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন ইসি গঠিত হবে। আইন না থাকলেও এর আগে দুই দফা সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইসি গঠন করা হয়েছিল। গত ২৭ জানুয়ারি আইন হওয়ার পর ৫ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে প্রধান করে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করে দেন রাষ্ট্রপতি। ইসি গঠনে নতুন আইন অনুযায়ী, সার্চ কমিটি গঠনের ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে ১০ জন যোগ্য ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করবে কমিটি। এ ১০ জনের মধ্য থেকে সিইসিসহ ৫ জনকে নিয়ে ইসি গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি।
