২০২১ সালে ‘ইইউ প্লাস’ হিসেবে পরিচিত দেশগুলোতে অভিবাসী ও শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছেন ২০ হাজার বাংলাদেশি। ২০২০ সালের তুলনায় গত বছর বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে আবেদন মঞ্জুর হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) আশ্রয় আবেদনের প্রবণতাসংক্রান্ত বার্ষিক হালনাগাদ প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ডয়চে ভেলে এসব তথ্য জানিয়েছে।
নিজ দেশে বর্ণ, ধর্ম, জাতীয়তা, রাজনৈতিক কারণে কেউ নির্যাতনের শিকার হলে বা কারও জীবন হুমকির মুখে থাকলে তিনি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইউরোপের দেশগুলোতে সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করতে পারেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কতসংখ্যক আবেদন জমা পড়ছে, তা নিয়ে ২০১৪ সাল থেকে প্রতিবছর হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে ইইউএএ। সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালে ‘ইইউ প্লাস’ তথা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, নরওয়ে, আইসল্যান্ড ও লিশটেনস্টাইনে আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছেন প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি। ২০১৪ সালে ইইউএএ‘র পরিসংখ্যান প্রকাশ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি বাংলাদেশিদের আবেদনের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
গত বছর বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৬ লাখ ১৭ হাজার ৮০০টি আবেদন জমা পড়েছে। এই সংখ্যা ২০২০ সালের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি। সবচেয়ে বেশি আবেদন করেছেন আফগান ও সিরীয়রা। সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আবেদনকারীর তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলো। তালিকায় প্রথম পাঁচে রয়েছে সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক, পাকিস্তান ও তুরস্ক। বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের বছরের তুলনায় ২০২১ সালে বাংলাদেশিদের আবেদনের হার তিন-চতুর্থাংশ বেড়েছে। তাদের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক’ বাংলাদেশিও আছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশিদের প্রায় ১৬ হাজার ৩০০টি আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে। আগের বছরের চেয়ে এই সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশ বেড়ে ২০১৮ সালের রেকর্ড পরিসংখ্যানের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
