ধর্ষণ: এবার স্থানীয়রা পেটাল বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৬:৪৬ পিএম

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ধর্ষণের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর দুই দফা হামলা চালিয়েছে স্থানীয়রা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধর্ষণের প্রতিবাদ ও বিচার চেয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখা শিক্ষার্থীদের ওপর প্রথম দফায় বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় হামলা হয়। সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা সরে আসলে ৫টার দিকে ক্যাম্পাসের মূল ফটকে দ্বিতীয় দফা হামলা হয়। এ সময় স্থানীয়রা রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে। তারা নির্বিচারে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে শিক্ষকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহত কয়েকজনকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। 

তারা আরো জানায়, সর্বশেষ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের আরো ভেতরে অবস্থান নিয়েছেন। অস্ত্র হাতে স্থানীয়রা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে আছে।

কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ঘোনাপাড়ায় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখার সময় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের উপস্থিতি ছিল। তারা সরে যাওয়ার পর হামলা হয়। এ সময় যোগাযোগ করে উপাচার্য ড. একিউএম মাহবুব এবং  প্রক্টর ড. রাজউর রহমানকে পাওয়া যায়নি। একটি সূত্র জানায় নিরাপদে তাদের একটি বাসায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ফোনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ক্যম্পাসেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউ উপস্থিত নেই। পুলিশকে দেখা যায়নি। 

হামলার ঘটনা বিষয়ে পুলিশের মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জ‌ড়িত স‌ন্দে‌হে এখন পর্যন্ত তিনজন‌কে আটক ক‌রে‌ছে পু‌লিশ। গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি ম‌নিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ অ্যান্ড অপারেশন) নিহাদ আদনান তাহিয়ান বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়েছে। আমাদের টিম ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব।

জানা যায়, বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী তার বন্ধুর সঙ্গে গোপালগঞ্জ সদরের নবীনবাগ হেলিপ্যাডের সামনে থেকে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় ৫ থেকে ৭ জন বখাটে এসে ওই ছাত্রী আর তার বন্ধুকে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নির্মাণাধীন ভবনে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে বন্ধুকে আটকে রেখে মারধর করা হয়। তখন ওই ছাত্রী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। ভুক্তভোগী ছাত্রী বন্ধুদের মেসে গিয়ে সব ঘটনা জানায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রীকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিয়াস সিকদার (২২), অন্তর (২১) ও জীবনকে (২০) আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এছাড়া ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে অন্তর ও জীবন নামে দু’জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে আটকের ঘটনায় শহরের অন্যান্য পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নবীনবাগে রাস্তার ওপর আবর্জনা ফেলে অবরোধ করে। ঘটনাস্থলে সাংবাদিক গেলে অবরোধকারী পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা অশ্লীল আচরণ করে সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেয়।

ভোর থেকে শুরু হওয়া অবরোধে দুপুর আড়াইটায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে ঘোনাপাড়া ঘটনাস্থলে যান গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী, জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা, পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকাসহ কর্মকতারা।

তারা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধ তুলে নেয়ার অনুরোধ করেন। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়ার সঙ্গে সহমত পোষণ করা হয়। এ ছাড়া দোষীদের আটক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, কর্মচারী সমিতিসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন বিবৃতি দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. রাজিউর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছি এবং আমি নিজে এ ঘটনায় বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেছি।

গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ অ্যান্ড অপারেশন) নিহাদ আদনান তাহিয়ান বলেন, তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়েছে। আমাদের টিম অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই জড়িত সবাইকে আটক করা হবে।

হামলার আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব বলেন, আমরা সকাল থেকেই ঘোনাপাড়া অবরোধস্থলে আছি। যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও ঘৃণ্য। জড়িতদের দ্রুত আটকের জন্য প্রশাসনের সাথে আমরা বারবার কথা বলে যাচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত