সোহেল রানার বেঁচে থাকার অবলম্বন

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:২৪ এএম

২০১৮ সালের ২৪ নভেম্বর দিনটি কখনই ভুলবেন না সোহেল রানা। মানিকগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেলে ঢাকায় ফেরার পথে একটা দুর্ঘটনা জীবনটাই এলোমেলো করে দিয়েছিল আবাহনী লিমিটেডের এই হোল্ডিং মিডফিল্ডারের। বাইকটা চালাচ্ছিলেন নিজেই। এক মুহূর্তের অসতর্কতায় তার প্রিয়তমা স্ত্রী তাসলিমা আফরিন ও তিন বছরের ছেলে আব্দুল্লাহ আল আফনান ছিটকে পড়ে মুহূর্তে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হন। সেই দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়ানো সোহেল দীর্ঘদিন পর আবার আলোচনায় এসেছেন মোহামেডানের বিপক্ষে অসাধারণ এক গোল করে। বুধবার সিলেটে বিপিএলের খেলায় বক্সের বাইরে থেকে চোখধাঁধানো শটে গোল করে আবাহনীকে পাইয়ে দেন জয়ের দেখা। সেই গোলের  উদযাপনেও হারানো স্ত্রী ও সন্তানকে স্মরণ করেছেন সোহেল। জার্সির ভেতরের ইনারে তাদের ছবি সেঁটে খেলাটা তার অভ্যেসে পরিণত হয়েছে। তবে গোলের অভ্যেসটা খুব বেশি হয় না। চিরবৈরী মোহামেডানের বিপক্ষেই পাওয়া সুযোগটা কাজে লাগান ৩১ বছরের মিডফিল্ডার।

সময় কারও জন্যই থেমে থাকে না। ৩১ বছরের সোহেলও নতুন করে ঘর বেঁধেছেন ২০২০ সালে। ঘরে এসেছে ফুটফুটে এক রাজপুত্র। তবে চার বছর আগে হারানো আফনান ও আফরিনকে এক মুহূর্তও ভুলতে পারেননি সোহেল। প্রসঙ্গটা আসতেই ফোনের ওপাশে কেঁপে উঠেছিল সোহেলের কণ্ঠ। বোঝাই যাচ্ছিল কান্না তাকে গ্রাস করছে। কোনোমতে সেটা চেপে বললেন ‘ওদের হারানোর পর থেকে যত ম্যাচ খেলেছি, ওরা আমার বুকেই থাকে। যতদিন আছি ওদের হারানোর কষ্ট সঙ্গী করেই বাঁচতে হবে। এমন কোনো দিন বা মুহূর্ত নেই যে ওদের কথা মনে পড়ে না। বলতে পারেন ওরাই আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন।’ ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনার এক-দেড় মাসের মধ্যেই মাঠে ফিরেছিলেন সে সময় শেখ রাসেলে খেলা সোহেল। সোহেল মনে করেন স্ত্রী ও সন্তানকে হারানোর শোক থেকে শক্তি সঞ্চয় করে তিনি ফিরতে পেরেছিলেন খেলায় ‘আমার ফুটবলে ফেরাটাই আমার স্ত্রীর জন্য। বেঁচে থাকতে স্ত্রী ছিল আমার অনুপ্রেরণার উৎস। ওদের মৃত্যুশোক কাটিয়ে উঠতে ফুটবলই ছিল আমার একমাত্র অবলম্বন। এখনো মনে হয় আমি ভালো খেললে ওরা ঠিকই খুশি হয়।’

স্ত্রী-সন্তান হারালেও সেই বাইকটা হাতছাড়া করেননি সোহেল। তবে একটা সময় নিজেই চেয়েছিলেন সেটা বিক্রি করে দিতে ‘দুর্ঘটনার পর মোটরসাইকেলটা প্রায় দেড় বছর চালাইনি। আমি ওটা বিক্রি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার বাবা সেটা বিক্রি করতে দেননি। বলেছিলেন যতদিন আমি বেঁচে থাকব, আমার বৌমা ও নাতির স্মৃতি হিসেবে মোটরসাইকেলটা আমার কাছে থাকবে। এখন যখন এটা চালাই একটা অন্যরকম অনুভূতি হয়। মনে হয় ওরা আমার সঙ্গেই আছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত