যুদ্ধবিধ্বস্ত, দুর্নীতিগ্রস্ত ৪৫ মিলিয়ন মানুষের দেশ ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভ্লদিমির জেলেনস্কি ক্ষমতায় বসেন ২০১৯ সালে। রাজনীতিতে নবীন, প্রাক্তন রিয়্যালিটি শো এর অভিনেতা, কমেডিয়ান জেলেনস্কিকে বরখাস্ত করা হয়েছিল অভিজাত আহর কলমস্কির সমালোচনার জন্য। তিনি ক্ষমতায় বসেন প্রায় ৭৩ শতাংশ ভোট নিজের পক্ষে পেয়ে। তিনি এ সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন যে রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে ইউক্রেনকে রক্ষা করবেন এবং রাশান ভাষাভাষী মানুষকে নিরাপত্তা দেবেন।
জেলেনস্কির জন্ম কেন্দ্রীয় ইউক্রেনের রাশান ভাষাভাষীদের প্রাধান্য আছে এমন শিল্পাঞ্চল ক্রিভি রিহতে। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর দু সন্তানের জনক জেলনস্কিকে ভাবা হচ্ছিল সম্ভবত তিনি তার মিশনে সফল হবেন, খুব দ্রুতই যখন তিনি ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দীদের মস্কোর সঙ্গে বিনিময় করেন।
কিন্তু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের গুড বুকে তিনি বেশি দিন থাকতে পারলেন না পশ্চিমাদের সঙ্গে পুরোনো পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার কারণে।
গত বছর রাশিয়া ইউক্রেন সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ শুরু করে এ অজুহাতে যে তারা সেখানে প্রশিক্ষণের জন্য এসেছে। অথচ রাশিয়া ইউক্রেন দখলে নিতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্রের এমন হুমকির প্রেক্ষিতেও জেলনস্কি ছিলেন শান্ত। তিনি তার নাগরিকদের বলেছিলেন আতঙ্কগ্রস্ত না হতে।
আবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাজধানী ঘুরতে লাগলেন জেলেনস্কি ইউক্রেনে যেন রাশিয়া ঢুকতে না পারে সে জন্য কূটনৈতিক, সামরিক ও আর্থিক সহায়তা চেয়ে।
কিন্তু ফেব্রুয়ারির ২৪ তারিখ জেলনস্কি ইউরোপের সবচেয়ে অসহায় প্রেসিডেন্টে পরিণত হলেন যখন রাশিয়া ভূমি, সমুদ্র এবং আকাশ পথে সর্বাত্মক হামলা শুরু করে।
ন্যাটোর পরিকল্পনা প্রণয়নের সাবেক পরিচালক এবং রাসমুসেন গ্লোবাল এর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ফ্যাব্রিক পথিয়ার বলেন, পুতিন চান রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ, ক্ষমতার পরিবর্তন।
তিনি বলেন, এটা খুব পরিষ্কার যে পুতিন ক্ষমতার পরিবর্তন চান। এমন কাউকে তিনি ক্ষমতায় চান যিনি রাশিয়ার স্বার্থের প্রতি সহানুভূতিশীল হবে, ন্যাটো আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার চিন্তা বাদ দেবে। তারা কিছুটা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে অথবা ফিনল্যান্ডের মতো থাকতে চাইবে।
উল্লেখ্য ফিনল্যান্ড ইউরোপের সঙ্গে সহযোগিতা করে কিন্তু ন্যাটোতে যোগ দিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে শত্রুতা এড়িয়ে আসছে।
জেলনস্কি নিজেকে রাশিয়ার এক নম্বর টার্গেট হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, তারা আমাকে পদচ্যুত করে ইউক্রেনকে ধ্বংস করতে চায়।
এই ৪৪ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আসা রাষ্ট্রেরও সমালোচনা করেন ইউক্রেনকে রক্ষায় তাদের সশরীরে উপস্থিত না হয়ে কেবল মৌখিক, কূটনৈতিক ও আর্থিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ রাখার জন্য।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে জাতির উদ্দেশে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, নিজেদের রাষ্ট্র রক্ষার জন্য আমাদের পাশে কেউ নেই। কে আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত? আমি কাউকে দেখতে পাইনি। কে ইউক্রেনকে আশ্বাস দেবে যে তারা ন্যাটো সদস্য হিসেবে আমাদের অন্তর্ভুক্ত করবে। সবাই ভীত।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই নাজুক অবস্থাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাকে বলা হয়েছে, ‘একজন একা মানুষ তবে সম্মান পাওয়ার যোগ্য’।
