একটা সময় লিটন দাসকে নিয়ে শুধু হাহাকারই তৈরি হতো। অমিত সম্ভাবনা নিয়ে জাতীয় দলে আবির্ভাব তার। কিন্তু সুযোগগুলো সেভাবে কাজে লাগাতে পারছিলেন না। ধারাবাহিকতা ছিল না তার ব্যাটে।
তবে সেই দিনগুলো পেছনে ফেলে নতুন করে উদ্ভাসিত লিটনের ব্যাট। এখন নিয়মিতই রান পাচ্ছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে ওয়ানডেতে দ্রুততম সময়ে পাঁচ সেঞ্চুরির কীর্তিও গড়ে ফেলেছেন।
শুক্রবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের পঞ্চম সেঞ্চুরিটি করেন লিটন। ১২৬ বলে করেন ১৩৬ রান। আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ ৪ উইকেটে গড়ে ৩০৬ রানের পুঁজি।
জবাবে আফগানরা গুটিয়ে যায় ২১৮ রানেই। তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি ৮৮ রানে জিতে টাইগাররা। এক ম্যাচ থাকতেই নিশ্চিত হয় সিরিজ। একই সঙ্গে ওয়ানডে সুপার লিগের শীর্ষেও উঠে যায় বাংলাদেশ।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন লিটন। কথা বলেন তার ইনিংস নিয়ে। এ সময় এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা সেঞ্চুরি দেখছেন, কিন্তু এর মধ্যে অনেকগুলো ইনিংস আমি খারাপও খেলেছি।’
মানসিকতা বদলেই সাফল্য পাচ্ছেন বলে জানান লিটন। আর এটা বলতে গিয়েই তিনি এভাবে বললেন, ‘খেলার মানসিকতা (ভালো হয়েছে)… কীভাবে খেললে সাফল্যের হার বেশি হয়। আপনারা সেঞ্চুরি দেখছেন, কিন্তু এর মধ্যে অনেকগুলো ইনিংস আমি খারাপও খেলেছি। ক্রিকেটটাই এমন, আমি যেটা অনুভব করি।’
লিটন বলে যান, ‘ওপেনার হিসেবে আপনি একদিন বড় ইনিংস খেলার সুযোগ পাবেন, সুযোগ প্রতিদিনই থাকবে... কিন্তু আপনি একদিন বড় খেলতে পারবেন, একদিন খেলতে পারবেন না। কারণ আমি যখন ম্যাচ শুরু করি তখন তাদের সেরা দুই বোলার বোলিং করেন। অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং থাকে জিনিসটা।’
সিরিজ শুরুর আগে রশিদ খান, মুজিব উর রহমানদের নিয়ে গড়া আফগান স্পিন নিয়ে আলোচনা হয়েছে অনেক। আগে দেখা যেত মানসিকভাবেই এই দিকটায় পিছিয়ে পড়ত টাইগাররা। কিন্তু এবার বেশ ব্যতিক্রম। রশিদ-মুজিবরা এবার আর ছড়ি ঘুরাতে পারছেন না।
এ নিয়ে প্রশ্ন করলে লিটন বলেন, ‘আমরা সিনিয়র হচ্ছি না? আমরাও তো ম্যাচ খেলে খেলে উন্নতি করছি। কোনো নতুন ব্যাটসম্যান যখন ক্যারিয়ার শুরু করে, এসব বোলিংয়ের বিপক্ষে খেলা তাদের জন্য কাজটা কঠিন। এখন তো আমরা যারা খেলছি, আমরা সবাই... আমি ৫ বছর খেলে ফেলেছি, আফিফরা ২-৩ বছর খেলেছে... তাদের তো একটা অভিজ্ঞতা হচ্ছে ক্রিকেটের।’
যোগ করেন, ‘আমার মনে হয়, এই জিনিসটা নিয়ে (ভড়কে যাওয়া) আমরা কেউ আর ওইভাবে চিন্তা করি না। আমরা শুধু জানি, ম্যাচে কাকে কীভাবে ব্যাটিং করব, সেই পরিকল্পনা সাজানোই মূল ব্যাপার।’
