বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নবগঠিত কমিটির শপথ গ্রহণ

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:৫০ পিএম

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নবগঠিত কমিটির নেতারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে শপথ গ্রহণ করেছেন।

শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সংগঠনের বিদায়ী সভাপতি ইকবাল কবীর এই শপথ পাঠ করান।

সংগঠনের সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সোহেলের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায়, সহসভাপতি রিয়ন রায়, সহসাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক রনজু হাসান, রাজনৈতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক শাকিল হোসেন, দপ্তর ও অর্থ বিষয়ক সম্পাদক তৈয়ব ইসলাম, সদস্য মিজানুর রহমান, জাকিরুল ইসলাম প্রমুখ।

উল্লেখ্য গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ১৫তম জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন ’৬৯-এ ভাসানীর লাল টুপি সমাবেশের অন্যতম নারী সংগঠক, কমিউনিস্ট আন্দোলনের কর্মী কমরেড গুলবদন্নেছা মনিকা (কমরেড ভাষা মতিনের স্ত্রী)।

ওইদিন বিকেল ৫টায় টিএসসি সেমিনার কক্ষে সংগঠনের সভাপতি ইকবাল কবীরের সভাপতিত্বে কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয়। দুই দিনব্যাপী কাউন্সিল অধিবেশনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায় শোকপ্রস্তাব, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রিপোর্ট এবং সাংগঠনিক রিপোর্ট উত্থাপন করেন।

সাংগঠনিক রিপোর্টে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম প্রসঙ্গে বলা হয়, জাতীয় ভাবে আমরা একটি দুঃসহ সময় পার করছি। মুখোমুখি হচ্ছি এক ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র কাঠামোর। যেখানে আমাদের সংকীর্ণ দৃষ্টি ভঙ্গি পরিহার করে নিজস্ব সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক  দক্ষতা সহ অন্যান্য প্রগতিশীল সংগঠন গুলোর শক্তিও কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে একটি বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের সূচনা করা অবশ্য কর্তব্য। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীকেই সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে নেতৃত্বদায়ী সংগঠন হিসেবে।

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী স্পষ্টত মনে করে, এই অত্যাচারী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রয়োজন বিপ্লবী রাজনৈতিক শক্তির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ সংগ্রাম। এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় আন্দোলন-সংগ্রাম সর্বদাই বৃহত্তর মঞ্চে সংগঠিত করতে হয়। ফলে সংগঠনের কর্মসূচি ও জোটগত কর্মসূচিতে সমান গুরুত্ব দিতে না পারলে ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াই কোনোভাবেই দানা বাধবে না।

রিপোর্টে সংগঠনের সাধারণ কৌশল প্রসঙ্গে বলা হয়, সংগঠন একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক লক্ষ্য ও কর্মসূচি নির্ধারণে সকল নেতা-কর্মীর চিন্তার আদান-প্রদানের মধ্য দিয়েই একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন সম্ভব। আর এটি তখনই অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে যখন সংগঠক হিসাবে আমরা নিজেদের তত্ত্বীয় ও রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারব। এটিই হবে বিপ্লবী সংগঠন হিসেবে আমাদের শক্তির প্রধান আধার। আশা করি, ১৫তম জাতীয় কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে আমরা সেই লক্ষ্যে ধাবিত হব।

দুই দিনব্যাপী কাউন্সিল অধিবেশনের মধ্য দিয়ে উপস্থিত কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার রাত ৯টায় বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সোহেল, সহসভাপতি রিয়ন রায়, অনুপ কুমার, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায়, সহসাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক রনজু হাসান, রাজনৈতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক শাকিল হোসেন, দপ্তর ও অর্থ বিষয়ক সম্পাদক তৈয়ব ইসলাম, সদস্য মনিরুজ্জামান মনির, মিজানুর রহমান, ফারহা তাহসিন, শুভ মিস্ত্রী, জাকিরুল ইসলাম প্রমুখ দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত