দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আইনি প্রক্রিয়ায় গঠিত নতুন নির্বাচন কমিশন দেশবাসীর আশা পূরণে সমর্থ হবে বলে মনে করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তবে নির্বাচন কমিশন নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছে দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি।
শনিবার সার্চ কমিটির সুপারিশেরভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ পাঁচজনকে নিয়োগ দিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করেছেন।
সাবেক সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল পরবর্তী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন চারজন। তারা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর ও আনিছুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ রাশেদা সুলতানা এমিলি এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবীব খান।
দেশের ত্রয়োদশ সিইসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া হাবিবুল আউয়ালের নেতৃতত্বাধীন এ কমিশনের পরিচালনায় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হবে।
নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান ঘটেছে। আমরা আশা করি, এই নির্বাচন কমিশন জাতির আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণে সমর্থ হবে।
হানিফ বলেন, আমরা মনে করি যে পাঁচ জন নিয়োগ পেয়েছেন তারা প্রত্যেকেই কর্মজীবনে অত্যন্ত দক্ষতা-সততা-যোগ্যতার ভিত্তিতে শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলেন। আমাদের প্রত্যাশা, তারা তাদের দক্ষতা-সততা দিয়ে নির্বাচন কমিশনে দায়িত্ব পালন করে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবেন।
আইনের মাধ্যমে সার্চ কমিটি গঠন করে যোগ্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা হয়েছে উল্লেখ করে হানিফ বলেন, এই নির্বাচন কমিশন নিয়ে আর যেন কোনো বিতর্ক তৈরি না হয়। আমরা মনে করি আমরা সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি।
নতুন নির্বাচন কমিশনের সামনে চ্যালেঞ্জ কী, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে হানিফ বলেন, আমাদের নির্বাচন কমিশনকে অনেক রাজনৈতিক দল ইচ্ছা করে বিতর্কিত করার চেষ্টা করে। সেরকম কোনো সুযোগ তারা যেন না পায় সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন সতর্ক থাকবে। সেই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে শুধুমাত্র এই বিতর্কের জন্যই বা রাজনৈতিক ফায়দার জন্য এই নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা না হয়। আমরা আশা করি, এই নির্বাচন কমিশন জাতির আকাঙ্ক্ষা পূরণে সমর্থ হবে।
অন্যদিকে, নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে কোনো আগ্রহ না থাকার কথা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, নতুন সিইসি বা কমিশনার কারা হলেন এটা নিয়ে আমাদের কোনো আগ্রহই নেই। এটা নিয়ে আমরা কোনো কথাই বলতে চাই না। আমাদের মূল কথা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে কোনো নির্বাচন কমিশনের পক্ষে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না তা তো ২০১৪ সালের নির্বাচন বলুন, ২০১৮ সালের নির্বাচন বলুন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বলুন—সবগুলো নির্বাচনে তা প্রমাণিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন তাদের আজ্ঞাবহ হয়, তাদের অনুগত হয়ে কাজ করে। তাই সরকারে আওয়ামী লীগ থাকলে নির্বাচন কোনোভাবেই নিরপেক্ষ হবে না—এটা চিরন্তন সত্য।
তিনি বলেন, আমাদের দলের অবস্থান পরিষ্কার- নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে বিএনপি যাবে না।
