বীমায় আগ্রহী করতে প্রচারণায় জোর দেওয়ার পাশাপাশি বীমা ব্যবস্থাকে ডিজিটাইজ ও অটোমেশনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার ‘জাতীয় বীমা দিবস-২০২২’ উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়াল ভাষণে তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন তো আমাদের দেশটা ডিজিটাল করে ফেলেছি। সবকিছু এখন ডিজিটালি হয়। কাজেই আমি মনে করি যে বীমা খাতকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটালাইজড এবং অটোমেশনে আনতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এটা যদি ডিজিটালাইজড হয় এবং প্রিমিয়াম দেওয়ার বা কোনো ব্যাপারে সরাসরি যদি কাজ করা যায় বা অনলাইনে করা যায়, এটা সকলের জন্য সুবিধা হবে এবং সবাই আগ্রহী হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমি মনে করি বীমা খাতকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে এর ব্যাপক প্রচার হওয়া দরকার। প্রচার করতে হবে যেন মানুষ বীমা করে।
তিনি বলেন, অন্তত আমি এইটুকু বলতে পারি- আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর আমরা কিন্তু বেসরকারি খাতে অনেক বীমা কোম্পানি দিয়েছি। তাতে যেমন অনেকের ব্যবসা করার সুযোগ হয়েছে পাশাপাশি অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি যে কাজই করেন না কেন সব সময় জনগণের কর্মসংস্থানের বিষয়টি তার মাথায় থাকে। এ জন্যই তিনি প্রথমবার ১৯৯৬ সালে সরকারে আসার পর বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, আইডিআরএর চেয়ারম্যান ড. এম. মোশাররফ হোসেন, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি শেখ কবির হোসেন প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ বীমা খাতে অসামান্য অবদানের জন্য পাঁচজনকে ‘বীমা পদক’ এবং দুই প্রতিবন্ধী শিশুকে ‘বঙ্গবন্ধু সুরক্ষা বীমা পলিসি’ প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে বীমা খাতের ওপর একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
১৯৬০ সালের ১ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন। তাই সরকার প্রতিবছর ১ মার্চকে জাতীয় বীমা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
