এ বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৯ জুন থেকে এএসসি ও ২২ আগস্ট থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এবার পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষা (টেস্ট) হবে না। তার বিকল্প হিসেবে প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা নেওয়া হবে।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ‘জরুরি বিজ্ঞপ্তি’ দিয়ে এ দুই পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ, ফরম পূরণ, প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষার তারিখ এবং কতটি বিষয়ে পরীক্ষা হবে সে কথাও জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৩ এপ্রিল থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ শুরু হবে। নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করা শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে অনলাইনে ফরম পূরণ করবে। প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা শুরু হবে ১৯ মে। অন্যদিকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ শুরু হবে আগামী ৮ জুন। তাদের প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা হতে পারে ১৪ জুলাই।
অন্যদিকে আজ বুধবার থেকে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খুলছে এবং সশরীরে ক্লাস হবে। তবে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধই থাকছে। করোনার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তীকালে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। করোনার কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর গত বছরের শেষদিকে ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসিতে শুধু গ্রুপভিত্তিক তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। এ বছর সেগুলোর সঙ্গে বাংলা, ইংরেজি, গণিতসহ বেশিরভাগ বিষয়ের পরীক্ষা হবে। সাধারণত ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি এবং এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হলেও এখন আগামী ১৯ জুন এসএসসি এবং ২২ আগস্ট এইচএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করা হয়েছে।
করোনা মহমারীর কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। ক্লাসের সঙ্গে পরীক্ষাও পিছিয়ে যায় বা বাতিল করতে হয়। ১৮ মাস পর গত বছর সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু নতুন করে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২১ জানুয়ারি আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এ ছুটি শেষে ২২ ফেব্রুয়ারি আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। তবে প্রাথমিকের ছুটি গতকাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো প্রথমে ১ মার্চ খোলার ঘোষণা দেওয়া হলেও সেদিন পবিত্র শবেমেরাজ হওয়ায় তা এক দিন পিছিয়ে আজ খোলা হচ্ছে।
এসএসসিতে চার বিষয়ে পরীক্ষা হবে না : এ বছর এসএসসিতে যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে হবে না, সেগুলো হলো ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বিজ্ঞান। এ বিষয়গুলোর মূল্যায়ন হবে বিষয় ম্যাপিং করে।
এসএসসিতে যেসব বিষয়ে পরীক্ষা হবে সেগুলো হলো বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উচ্চতর গণিত, জীববিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায় উদ্যোগ, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ভূগোল ও পরিবেশ, পৌরনীতি ও নাগরিকতা, অর্থনীতি, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান এবং কৃষি শিক্ষা। বিভাগভেদে (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) এসব বিষয় বিভাজন হয়।
২০২২ সালের পুনর্বিন্যাস করা পাঠ্যসূচিতে হবে এসএসসি পরীক্ষা। যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা নেই, সেসব বিষয়ে ৫৫ নম্বরের (সৃজনশীল ৪০, এমসিকিউ ১৫) পরীক্ষা হবে। আর যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা আছে, সেসব বিষয়ে ৪৫ নম্বরের (সৃজনশীল ৩০, এমসিকিউ ১৫) পরীক্ষা হবে। তবে ইংরেজি প্রথম পত্রে ৫০ এবং দ্বিতীয় পত্রেও ৫০ নম্বরের ভিত্তিতে পরীক্ষা হবে। পরীক্ষার সময় ও নম্বর বিভাজনের নির্দেশিকাও দেওয়া হয়েছে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে।
পরীক্ষা হবে দুই ঘণ্টায়। এর মধ্যে এমসিকিউ (বহু নির্বাচনী প্রশ্ন) অংশের সময় ২০ মিনিট এবং রচনামূলক বা সৃজনশীল অংশের সময় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। স্বাভাবিক সময়ে যেসব বিষয়ের ১০০ নম্বরের পরীক্ষা ৩ ঘণ্টায় হতো।
এইচএসসিতে এক বিষয়ে পরীক্ষা হবে না : এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে না। এ বিষয়ের মূল্যায়ন হবে ‘বিষয় ম্যাপিং’ করে। বাকি বাংলা, ইংরেজি, গ্রুপভিত্তিক নৈর্বাচনিক তিনটি বিষয় এবং একটি ঐচ্ছিক বিষয়ের ওপর পরীক্ষা হবে।
এইচএসসিতে যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা আছে, সেসব বিষয়ে ৪৫ নম্বরে এবং যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা নেই, সেসব বিষয়ে ৫৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে। তবে বাংলা দ্বিতীয় পত্রে ৫০, ইংরেজি প্রথম পত্রে ৫০ ও দ্বিতীয় পত্রে ৫০ নম্বরের ভিত্তিতে পরীক্ষা হবে। এইচএসসিতেও পরীক্ষা হবে দুই ঘণ্টায়।
আজ খুলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্লাস প্রতিদিন : প্রায় দেড় মাস বন্ধের পর আজ বুধবার দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খুলছে এবং সশরীর ক্লাস শুরু হচ্ছে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ক্লাস হবে প্রতিদিন (সপ্তাহে ছয় দিন)। তবে প্রাক-প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা আপাতত বন্ধই থাকবে।
এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল হক বলেন, অন্তত আরও দুই সপ্তাহ করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রাক-প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনা হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, সব বিদ্যালয় দুই পালায় পরিচালিত হবে। তবে কোনো সমাবেশ হবে না। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে আসা নিরুৎসাহিত করতে হবে। টিকা দেওয়া ছাড়া কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারবেন না।
