ভারতীয় রোগাক্রান্ত গরুর মাংসে সয়লাব পাটগ্রাম

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২২, ১২:২০ এএম

ভারত থেকে চোরাইপথে আসা রোগাক্রান্ত গরুর মাংসে সয়লাব লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা। সীমান্তের লাইনম্যানকে ম্যানেজ করে নানা উপায়ে এসব মাংস ঢুকছে পাটগ্রামে। দামে কম হওয়ায় এলাকাবাসীও দেদার খাচ্ছে এসব অস্বাস্থ্যকর গরুর মাংস। এতে করে উপজেলার মানুষের জনস্বাস্থ্য হুমকিতে পড়ছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নটি ভারত-বেষ্টিত হওয়ায় এর একাধিক পয়েন্ট দিয়ে ভারতীয় গরু, মহিষ ও অন্যান্য পণ্য পারাপার করে থাকে উভয় দেশের চোরাকারবারিরা। অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় রোগাক্রান্ত ও অসুস্থ হরিয়ানা, বোল্ডার জাতের গরু রাতের আঁধারে দহগ্রামে এনে কোনো প্রকার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই জবাই করা হয়। গরুপ্রতি ২ হাজার টাকা করে লাইনম্যানকে দিতে হয়। এসব গরুর মাংস উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারসহ বাংলাদেশের মূল ভূ-খ-ের দিকে পাচার করে বিক্রি করা হয়।

একাধিক মাংস বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, বিজিবির কিছু অসাধু সদস্য, ক্ষমতাসীন দলের ব্যক্তি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের ম্যানেজ করে এসব গরুর মাংস পারাপার করা হয়। বিভিন্ন অটো ও ভ্যানে ৫-৭ মণ করে গরুর মাংস করিডর গেট দিয়ে পার করতে গাড়িপ্রতি বিজিবির লাইনম্যানকে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা করে ঘুষ দিতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দহগ্রাম যাতায়াতের একমাত্র পথ তিনবিঘা করিডোর সড়ক দিয়ে এর আগে কখনো এভাবে গরুর মাংস পারাপার হয়নি। গত প্রায় দুই মাস ধরে ব্যাপক হারে গরুর মাংস পারাপার হচ্ছে।

পাটগ্রাম পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমিনুর রহমান বলেন, ‘বাজার জুড়েই দহগ্রাম থেকে আনা ভারতীয় গরুর মাংস। এগুলোর মান অতটা ভালো না।’

পৌর বাজারের গরুর মাংস বিক্রেতা বাবু মিয়া বলেন, ‘দহগ্রাম ও পানবাড়ি গ্রামের কসাইরা বিভিন্নজনকে ম্যানেজ করে করিডোর গেট দিয়ে মাংস নিয়ে আসে। পরে উপজেলার সব কসাই সেই মাংস কিনে এনে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করেন। এসব মাংসের দাম কম হওয়ায় পাটগ্রামে আর কোনো গরু জবাই হয় না।’

উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক (স্যানিটারি ইন্সপেক্টর) শায়লা পারভীন বলেন, ‘এখানকার মানুষ কোনো কিছুই মানতে চান না। সুস্থ গরু ও নিরাপদ মাংস বিক্রির বিষয়ে আমরা সভা-সমাবেশ, মাইকিং করেছি, জনপ্রতিনিধিদেরকে বলা হয়েছে। তারপরেও কোনো কাজ হচ্ছে না।’

জানতে চাইলে বিজিবি ৫১ ব্যাটালিয়নের পানবাড়ি কোম্পানি কমান্ডার খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘করিডোর গেট দিয়ে কোনো মাংস পারাপার হয় না।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুর রহমান বলেন, ‘উপজেলার আইনশৃঙ্খলা সভায় অবৈধভাবে ভারতীয় গরুর মাংস নিয়ে আসা বন্ধ করতে বলা হয়েছে। এজন্য বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধ করেছি। তারপরও কোনো কাজ হচ্ছে না। এ নিয়ে জেলা পর্যায়ে কথা বলে বিজিবিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত