জেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হাবিব হাওলাদার অভিযোগ করেছেন, মাদক কারবারে বাধা দেওয়ায় গত নির্বাচনের পরাজিত প্রার্থী মনজুর হোসেন মিন্টু শিকদারের নির্দেশে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এ সময় আরও ৫ আহত হয়। তারা মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মস্তফাপুর ইউনিয়নের বড়মেহের এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। আক্রান্ত হাবিব হাওলাদার (৩২) ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং মিন্টু শিকদার (৩৮) একই ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন।
হাবিব ছাড়াও আহত হয়েছেন তার দুই ভাই নাসির হাওলাদার (৪৫), ইলিয়াস হাওলাদার (৩৫) এবং ফজলে হাওলাদার (৪৫) হুমায়ূন শিকদার (৩৫) ও আজিজুল হাওলাদার (৪৫)।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগে বলছেন, এলাকার মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত মিন্টু শিকদার। তিনি মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় ডিলার হিসেবে মাদক কেনা বেচার সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি শেষ হওয়ায় ইউপি নির্বাচনে সদস্য পদে হেরে যান মিন্টু শিকদার। এরপর থেকেই বিজয়ী হাবিব হাওলাদারের সঙ্গে তার বিরোধ চলে আসছিল।
আরও বলা হয়, বৃহস্পতিবার বিকেলে মিন্টু শিকদারকে মাদক কারবারি বন্ধ করতে বলায় হাবিব হাওলাদারের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। তারই জের ধরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মিন্টু শিকদারের নির্দেশে শিহাব শিকদার, মনির শিকদার, রকিব হাওলাদারসহ ২০-৩০ জন লোকের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাবিব ও তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ৬ জন আহত হন।
হাবিব হাওলাদার বলেন, মিন্টু শিকদারকে মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে বলায় আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। আমার চিৎকারে দুই ভাই ও আমার সমর্থকসহ কয়েকজন এগিয়ে আসলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি, এই মাদক কারবারিকে আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার করা হোক।
এ বিষয়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে মিন্টু শিকদার বলেন, ‘আমি বৃহস্পতিবার থেকে জেলার বাইরে আছি। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। তারা আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করছেন সেটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তবে আমি শুনেছি হাবিব হাওলার ও তার লোকজন আরেকজনের বাড়িতে হামলা করতে যাওয়ায় এলাকার লোকজন তাদের প্রতিহত করেছেন।’
বিষয়টি নিয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, আমি ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ এলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
