রাজধানী কিয়েভ থেকে ৩০ মাইল দূরে অবস্থিত তেতেরিভ নদীর ওপর থাকা একটি ব্রিজ ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর সেনারা ধ্বংস করে দেওয়ায় রাশিয়ার সেনা বহরের গতি থমকে গেছে। রাশিয়ান সেনারা ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরু করার পরপরই অবস্থার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে ২৫ ফেব্রুয়ারি ব্রিজটি উড়িয়ে দেয় ইউক্রেন সেনারা।
আর এ ব্রিজটি ধ্বংস করে দেওয়ার কারণেই রাশিয়ানরা তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কিয়েভের দিকে আগাতে পারেনি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা।
তাছাড়া রাশিয়ান সেনাদের ওপর বিভিন্ন জায়গায় ইউক্রেনের সেনাদের হামলার কারণেও রাশিয়ার খুব বেশি দূর আগাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা
ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্রিজ, সরাসরি আক্রমণের পাশাপাশি জ্বালানি ও খাবারের সংকটও রাশিয়ানদের অগ্রসর থামিয়ে দিয়েছে।
রাজধানী কিয়েভ থেকে বর্তমানে ১৫ মাইল দূরে অবস্থান করছে রাশিয়ার ৪০ মাইল দীর্ঘ সামরিক বহরটি।
রাশিয়ান সামরিক বহর নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দারা জানায়, আমরা বিশ্বাস করি ইউক্রেনীয়দের উড়িয়ে দেওয়া সেই ব্রিজ রাশিয়ানদের বহরের গতি থামিয়ে ও কমিয়ে দিয়েছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি তারা বিভিন্ন জায়গায় এই বহরে সরাসরি হামলাও করেছে।
তবে গোয়েন্দাদের আশঙ্কা বহর নিয়ে থেমে যাওয়ার পর রাশিয়া এখন তাদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনার সুযোগ পাচ্ছে এবং পুনরায় নতুন কৌশলে একত্রিত হচ্ছে। এবার তারা হয়তো আরও নৃশংস কোনো পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাবে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ দশম দিনে গড়িয়েছে এবং দু পক্ষের দ্বিতীয় দফা আলোচনাতেও কোন সমঝোতা হয়নি। আবার বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ বন্ধের দাবি জোরালো হলেও তার দিকে নজর নেই কোন পক্ষেরই।
বরং একদিকে কিয়েভের দিকে অগ্রসর হচ্ছে রুশ বাহিনী আবার অন্যদিকে নেটো ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ব্যাপক সহায়তায় তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে ইউক্রেনীয়রা।
গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি এ যুদ্ধের সূচনা করেছিলো রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন ইউক্রেনকে নেটোতে যোগদান থেকে বিরত রাখা ও দেশটিকে একটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করাই তার লক্ষ্য।
যদিও ইউক্রেনে হামলার পর নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বলছে মিস্টার পুতিন সোভিয়েত সাম্রাজ্য ফিরত পেতে চান।
চলমান যুদ্ধে রাশিয়াকে ঠেকাতে ইউক্রেনকে ব্যাপক সামরিক সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও তাদের মিত্ররা। ন্যাটোতে যোগ না দিয়েও রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ন্যাটোর সব ধরণের সমরাস্ত্র ও গোয়েন্দা সহযোগিতা পাচ্ছে ইউক্রেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অবশ্য বলেছেন যুদ্ধ বন্ধ করতে তিনি সরাসরি রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সাথে আলোচনা করতে চান।
যদিও রাশিয়ানদের তরফ থেকে এ বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া আসেনি। মিস্টার পুতিন শুধু বলেছেন ইউক্রেনে সাফল্য অর্জনই তার লক্ষ্য।
