ফেনীতে আমন মৌসুমে গত আড়াই মাসে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার ২০ শতাংশও পূরণ হয়নি। ৩ হাজার ৬ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৭৩২ টন।
হাট-বাজারগুলোতে ধানের দাম বেশি হওয়াসহ নানা কারণে গত দুই মাসে কৃষকেরা ধান সরকারি খাদ্যগুদামে বিক্রি করেননি।
প্রান্তিক কৃষকেরা জানায়, সরকারিভাবে প্রতি মণ ধানের ক্রয়মূল্য ১ হাজার ৮০ টাকা ধরা হয়েছে। অথচ বাড়ি থেকে ওই ধান খাদ্যগুদামে নিতে ৩০০-৫০০ টাকা গাড়ি ভাড়া লেগে যায়। কৃষকের কথা চিন্তা করে সরকারিভাবে ধানের দাম আরও বাড়াতে হবে। তা না হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। কারণ বাজারে এখন ধানের দাম ১ হাজার ১২০ টাকার বেশি। আবার অনেক ব্যাপারী কৃষকের বাড়িতে গিয়ে ধান কিনে নেন। সেখানে কৃষকের কোন খরচ হয় না।
এ ছাড়া কৃষি কার্ড নিয়ে অনলাইনে আবেদন, ব্যাংক চেকের মাধ্যমে দাম পরিশোধ, আর্দ্রতা মাপা, পরিবহন খরচসহ নানা ঝামেলার কারণে তারা খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে চান না।
সোনাগাজী চর চান্দিয়া এলাকার কৃষক মিজানুর রহমান জানান, করোনা পরিস্থিতিতেও উপজেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের বাজার এখন ঊর্ধ্বগতির দিকে যাচ্ছে। ধানের দাম আরও বাড়বে বলে মনে করে অনেক কৃষক ধান বিক্রি না করে ঘরে মজুত করছেন। করোনার সংকটময় পরিস্থিতিতে কৃষিখাতে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় তাদের অতিরিক্ত টাকা জোগান দিতে বেগ পেতে হয়েছে। সরকারের যে মূল্য, তা আরও বাড়াতে হবে, তবেই কৃষক সরকারের কাছে ধান বিক্রি করবেন। খাদ্যগুদামে নানা অজুহাতেও ধানের শ্রেণি বিন্যাস করে দাম কমানো হয়।
ফেনীর সোনাগাজীতে আমন মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার ৩০শতাংশও পূরণ হয়নি। ১ হাজার ৫০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের শেষদিন পর্যন্ত ২মাস ২০দিনে মোট ধান সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৩৫৫ টন।
ফেনী খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানায়, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর থেকে এই উপজেলায় খাদ্যগুদামে ন্যায্যমূল্যে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়। সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে দুই শতাধিক কৃষক অনলাইনে আবেদন করেছেন।
প্রতি কেজি ধান ২৭টাকা দরে ও প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৮০ টাকা দরে কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করার জন্য সরকারি নির্দেশনা ছিল। প্রত্যেক কৃষক সর্বোচ্চ তিন টন ধান গুদামে বিক্রি করতে পারবেন।
ধান সংগ্রহ শুরুর পর থেকে প্রায় ২২৩ জন কৃষকের কাছ থেকে মাত্র ৭৩২ টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। হাট-বাজারে ধানের দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকেরা গুদামে ধান নিয়ে আসছেন না।
ফেনী সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক রুপক চাকমা বলেন, হাটবাজারে ধানের দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি থাকায় ধান সংগ্রহ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। বাজার দর বৃদ্ধি পেলে খাদ্যগুদামে সরকারিভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা সম্ভব হবে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৩৮৪ মেট্রিক টন হলেও সংগ্রহ হয়েছে ২ হাজার ৭৩৪ মেট্রিক টন। এর আগে বোরো মৌসুমেও লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬০ শতাংশ পূরণ হয়েছিল।
