ইন্টারনেটে গতি বাড়লেও র‌্যাঙ্কিংয়ে তলানিতে

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২২, ১২:২০ এএম

দেশে ফাইভজি চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে চালু থাকা ফোরজি নিয়েই অনেক অসন্তোষ রয়েছে গ্রাহকদের। প্রতি বছর গ্রাহক বাড়লেও ইন্টারনেটের ন্যূনতম গতি না বাড়ায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো তলানিতেই রয়ে গেছে। গত জানুয়ারিতে মোবাইল ইন্টারনেটের ডাউনলোড গতিতে বিশে^র ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩০তম। যদিও গত এক বছরে দেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি কিছুটা বেড়েছে। তবে এ সময়ে অন্য দেশগুলোতেও ইন্টারনেটের গতিতে অগ্রগতি হওয়ায় বাংলাদেশের অবস্থানে তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। এখনো মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ সবচেয়ে পিছিয়ে।

প্রতি মাসে বিভিন্ন দেশের ইন্টারনেটের গতি পরীক্ষা করে তুলনামূলক চিত্র প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওকলা। এ প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের ডাউনলোডের গতি ছিল ৯ দশমিক ৮১ এমবিপিএস (মেগাবাইট পার সেকেন্ড)। গত এক মাসে ইন্টারনেট গতির আরও অবনতি হয়েছে। গত এক বছরে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড গতি ছিল গত ডিসেম্বরে, ১০ দশমিক ৫১ এমবিপিএস। অবশ্য এক বছরে মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে বাংলাদেশের কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে দেশে মোবাইল ইন্টারনেটে ডাউনলোড গতি ছিল ৭ দশমিক ৪৫ এমবিপিএস। বর্তমানে বিশে^ যেসব দেশের মোবাইল ইন্টারনেট সেবার মান সবচেয়ে নিম্নমানের, সেসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১তম যা গত বছর ছিল পঞ্চম।

তবে গতিতে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও তা মোবাইলফোন ইন্টারনেটে বৈশি^ক ডাউনলোড গতির তুলনায় অনেক নিচে রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মোবাইলফোন ইন্টারনেটে বৈশি^ক ডাউনলোড গতির গড় ছিল ২৯ দশমিক ৬০ এমবিপিএস । এ সময় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে ডাউনলোডে গড় গতি ছিল ৫৯ দশমিক ৮৬ এমবিপিএস।

ওকলার পরীক্ষা বলছে, ইন্টারনেটের গতির দিক দিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে সিরিয়া, লিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, শ্রীলংকা, ভারত, পাকিস্তান ও নেপাল। অবশ্য ব্রডব্যান্ডে বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলক ভালো। বর্তমানে ১৭৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৪তম। গত জানুয়ারিতে ব্রডব্যান্ডে ডাউনলোড গতি ছিল ৩১ দশমিক ৫২ এমবিপিএস।

ইন্টারনেটের ডাউনলোডের গতিতে পাকিস্তানের অবস্থান ১০২তম। দেশটিতে চলতি জানুয়ারিতে মোবাইল ইন্টারনেটে ডাউনলোডের গতি ছিল ১৬ দশমিক ৫৬ এমবিপিএস। মোবাইল ইন্টারনেটে দেশটি তুলনামূলক একটি অবস্থানে থাকলেও ব্রডব্যান্ডে তলানিতে তাদের অবস্থান। জানুয়ারিতে ব্রডব্যান্ডের গতিতে দেশটির অবস্থান ১৫১তম।

নেপালেও বাংলাদেশের চেয়ে বেশি গতি পাওয়া যায়। দেশটির অবস্থান ১১২তম। ২০২১ সালের নভেম্ব^রে নেপালে মোবাইলফোন ইন্টারনেটের ডাউনলোড গতি ছিল ১৮ দশমিক ৩৬ এমবিপিএস, যা ধারাবাহিকভাবে কমে গিয়ে চলতি জানুয়ারিতে ১৪ দশমিক ৯৬ এমবিপিএসে নেমেছে। ব্রডব্যান্ডের গতিতে দেশটির অবস্থান ৭৯তম।

গত জানুয়ারিতে মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে শ্রীলঙ্কা ছয় ধাপ এগিয়ে ১১৪তম অবস্থানে উঠে এসেছে। এসময়ে শ্রীলঙ্কায় গড় গতি দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৯৬ এমবিপিএস। ব্রডব্যান্ডের গতিতে দেশটির অবস্থান ১১২তম। 

গত এক বছরে ভারতে মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। বৈশি^ক ডাউনলোড গতির চেয়ে অনেক নিচে অবস্থান করলেও এক বছরে দেশটির মোবাইল ইন্টারনেটের গতি ৮ দশমিক ৪৬ এমবিপিএস থেকে ১৩ দশমিক ৪৯ এবিপিএসে উন্নীত হয়েছে। এক্ষেত্রে জানুয়ারিতে দেশটির র‌্যাঙ্কিং ছিল ১১৬তম। ব্রডব্যান্ডে ডাউনলোড গতি ছিল ৪৭ দশমিক শূন্য ৮ এমবিপিএস।  যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়ার মোবাইল ইন্টারনেটে ডাউনলোড গতি ১২ দশমিক ২৪ এমবিপিএস। দেশটির অবস্থান ১২২তম। ডিসেম্বরের তুলনায় পাঁচ ধাপ এগিয়ে গত জানুয়ারিতে ১১১তম অবস্থানে উঠে এসেছে উগান্ডা।  

গত ডিসেম্বর শেষে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৩৭ লাখ ৩০ হাজার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত