ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে রকেট হামলায় নিহত বাংলাদেশি নাবিক মো. হাদিসুর রহমানের মরদেহ পেতে স্বজনদের অপেক্ষা আরও বাড়ল। বিরূপ আবহাওয়ায় ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের এ নাবিকের মরদেহ গতকাল রবিবার দেশে আসেনি। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আজ দুপুরে হাদিসুরের লাশ দেশে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএমওএ) প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন মো. এনাম চৌধুরী।
রোমানিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী দেশ রূপান্তরকে জানান, পূর্বনিধারিত শিডিউল অনুসারে গতকাল রাত ৮টায় হাদিসুরের মরদেহ ঢাকা পৌঁছার কথা ছিল। কিন্তু তুষারপাতের কারণে ইস্তাম্বুল-ঢাকা রুটের পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় মরদেহ পৌঁছতে বিলম্ব হচ্ছে। দাউদ আলী বলেন, ‘ইস্তাম্বুল থেকে টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে হাদিসুরের লাশ ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভারী তুষারপাতের কারণে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর থেকে ওই ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে।’
রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান যুদ্ধের মধ্যে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া সমুদ্রবন্দরে গিয়ে ২৯ নাবিকসহ আটকা পড়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’। ২ মার্চ সেখানে রকেট হামলার শিকার হয় জাহাজটি। হামলায় বাংলার সমৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমান নিহত হন। ভাগ্যক্রমে প্রাণে রক্ষা পান অপর ২৮ নাবিক। পোল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইউক্রেনে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি সংস্থার সহায়তায় হাদিসুরের লাশ ও জীবিত ২৮ নাবিককে সেখান থেকে উদ্ধার করে ইউক্রেনের একটি বাঙ্কারে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে সড়কপথে তাদের রোমানিয়ার বুখারেস্টে নিয়ে যাওয়া হয়। রোমানিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় সেখান টার্কিশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে ইস্তাম্বুল হয়ে গত ৯ মার্চ দেশে ফেরেন ২৮ নাবিক।
বিএমএমওএ সূত্র জানায়, ঢাকা পৌঁছার পর হাদিসুর রহমানের মরদেহ গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার হাসনাবাদে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে লাশ দাফনের কথা রয়েছে।
এদিতে গতকাল হাদিসুরের গ্রামের বাড়ি কদমতলায় গিয়ে দেখা গেছে, নেওয়া হয়েছে দাফন-কাফনের সব ব্যবস্থা। পারিবারিক কবরস্থানে ইতিমধ্যেই কবরের জায়গা ঠিক করে রাখা হয়েছে। তার বাড়ির উঠানে টাঙানো হয়েছে সামিয়ানা, আগত লোকজনকে বসতে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে চেয়ার।
হাদিসুর রহমানের চাচা ও বেতাগী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান ফোরকান বলেন, আজ (রবিবার) হাদিসুরের মরদেহ আসার কথা ছিল। সে অনুযায়ী আমরা সোমবার বাদ আছর গ্রামের বাড়িতে তার জানাজার নামাজের সময়সূচি ঠিক করি। কিন্তু এখন লাশ আসতে আরও দেরি হচ্ছে। তিনি জানান, দাদা-দাদির কবরের পাশেই তাদের আদরের নাতি হাদিসুরকে সমাহিত করা হবে।
