কমিটি ছাড়াই শেষ হলো রাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২২, ০৬:৫০ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সমন্বিত হল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ মাঠে সম্মেলন শুরু হয়।

তবে কোনো হলের কমিটি ঘোষণা ছাড়াই বিকেল সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠান শেষ হয়। পরবর্তীতে আলোচনা করে কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে ঘোষণা দেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া।

দীর্ঘ ৬ বছর পর অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ করা যায়। সকাল থেকেই বিভিন্ন হল থেকে কর্মীদের নিয়ে সাবাস বাংলাদেশ মাঠে জড়ো হতে থাকে পদপ্রত্যাশীরা।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। সভাপতিত্ব করেন সদ্য বিলুপ্ত শাহ মখদুম হলের সভাপতি আরিফ বিন জহির। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু।

এ দিন দুপুর ১টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। তখন অতিথিরা ও কেন্দ্রীয় নেতারা নিজ নিজ হলের নাম খচিত পতাকা উত্তোলন করেন ১৭ টি হলে ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এরপর বেলুন ও কবুতর অবমুক্তকরণের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া। পরে ছাত্রলীগের দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে একে একে অতিথিরা তাদের বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এএইচএম খাইরুজ্জামান লিটন বলেন, যে ছাত্রলীগের ইতিহাস জানে, সে বাংলাদেশের ইতিহাস জানে। বাংলাদেশ সৃষ্টিতে ভ্যানগার্ডের কাজ করেছে ছাত্রলীগ। ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে, ছাত্রলীগকে নিয়ে নানা চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। এ সকল ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার মতো ভিত্তিপ্রস্তরের রাজনীতি করি না। আমরা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করি, আবার সেই কাজ বাস্তবায়ন করেও দেখাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে ভবিষ্যতেও ক্ষমতায় থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ আগামী আরও কয়েক বছর ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশকে আর কখনো পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। আমরা ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হব।

অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, আজকের এই হল সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগের অনেক ত্যাগী, ছাত্রবান্ধব নেতা উঠে আসবেন। যারা নিজের জন্য কাজ না করে শিক্ষার্থীদের জন্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য, দেশের জন্য কাজ করবেন। আমরা এমন কোনো কাজ করব না যাতে শেখ হাসিনার উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।’

এ সময় আগামী ঈদ-উল-ফিতরের পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ২৬তম সম্মেলনের তারিখ প্রকাশ করা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন কোনো জায়গা নাই যেখানে শিবির ক্যাডাররা ছাত্রলীগের কর্মীদের রক্তে এই মাটি রঞ্জিত করে নাই। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের রক্তে রঞ্জিত মাটি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও শিবির ক্যাডাররা ছাত্রলীগের ওপর অত্যাচার কোনোভাবেই বন্ধ করেনি। তারা সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় তাদের কূট-কৌশল এবং পাকিস্তানিদের মদদপুষ্ট জঙ্গিবাদীদের কাছ থেকে অস্ত্র ও ট্রেনিং নিয়ে ছাত্রলীগের ওপর আক্রমণ করেছে। তারা যেন আর আপনাদের সামনে এক বিন্দু দাঁড়াতে না পারে নিজের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে এই মাটি থেকে তাদের বিতাড়িত করবেন।

অনুষ্ঠানে ড. শামসুজ্জোহা হলের সাধারণ সম্পাদক বরজাহান আলীর সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাঈদ আহমেদ পলক, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল সরকার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ড. আনিকা ফারিহা জামান অর্ণা, ছাত্রলীগের সহসভাপতি খালিদ হাসান নয়ন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ হিল বারী, সহ-সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সাদ্দাম, আহসান হাবীব বাপ্পী, শফি আজাদ বান্টি ও প্রদীপ কুমার সাহা পিংকু, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হল মাঠে একসঙ্গে ৮টি হল শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সম্মেলনের পরদিন ২৩ নভেম্বর তিনটি এবং ২৪ নভেম্বর চারটি হলের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত