মন্ত্রিসভা বৈঠক

যুদ্ধাপরাধীর বাড়ি হবে পরিত্যক্ত সম্পত্তি

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২২, ০৩:২৪ এএম

আদালতের রায়ে বাজেয়াপ্ত যুদ্ধাপরাধীর বাড়ি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হবেÑ এমন বিধান রেখে ‘পরিত্যক্ত সম্পত্তির বাড়ি (সম্পূরক বিধানাবলি) আইন, ২০২২’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে পরিত্যক্ত সম্পত্তির বাড়ি বণ্টন কিংবা অন্য যেকোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে সিদ্ধান্ত নিত গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার ভার্চুয়ালি মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সচিবালয় থেকে মন্ত্রীরা এ বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠকে পরিত্যক্ত সম্পত্তি আইন অনুমোদন ছাড়াও ‘অ্যাভিডেন্স (অ্যামেন্ডমেন্ট), অ্যাক্ট’, ২০২২-এর নীতিগত, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (ছুটি, পেনশন, বিশেষাধিকার) আইন, ২০২২’-এর চূড়ান্ত এবং ‘জাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২২’-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ১৯৭১ সালে যারা দেশ ত্যাগ করে চলে গেছেন তাদের সম্পত্তি হচ্ছে পরিত্যক্ত সম্পত্তি। তখন থেকেই বিধিবিধান করে পরিত্যক্ত সম্পত্তি পরিচালনা করা হতো। এরপর ১৯৮৫ সালে এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ করা হয়।

আইনের মৌলিক বিষয় ছিল পরিত্যক্ত সম্পত্তিগুলো দুটি ভাগে ভাগ করা। দুভাগের মধ্যে ছিলÑ একটি তিন শতাংশ জমির বাড়ি, আরেকটি তিন শতাংশের বেশি জমির বাড়ি। তিন শতাংশের বাড়িগুলোকে সেইল লিস্ট বলা হতো। যেগুলো তিন শতাংশের বেশি জমির সেগুলো নিয়ে রিটেইল লিস্ট। সেইল লিস্টে বাড়িগুলো যুদ্ধাহত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে অগ্রাধিকারে ১৯৭২ সালের দাম অনুযায়ী দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর রিটেইল লিস্টের বাড়িগুলো পূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায়। এগুলো সরকারি বাড়ি হিসেবে পূর্ত মন্ত্রণালয় বিভিন্ন দপ্তরকে লিজ বা ভাড়া দিয়েছে।

নতুন আইনে কিছু নতুন বিষয় যুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যুদ্ধাপরাধীর মামলায় যদি কেউ দ-িত হয়, কোর্ট যদি তার জমিজমা-সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নেয়, তবে সেটাও পরিত্যক্ত সম্পত্তির মধ্যে পড়বে, যেটা আগে ছিল না। এখন বাড়িগুলোর যে মূল্য হয়েছে, মন্ত্রী, সচিবসহ বিভিন্ন বড় বড় অফিসার গুলশান-বনানীতে যেসব বাড়িতে থাকেন, এগুলোর ৯৯ শতাংশই পরিত্যক্ত সম্পত্তি। এসব বাড়ির মূল্য অনেক বেড়ে গেছে। এক-একটি বাড়ির দাম কয়েকশ কোটি টাকাও হবে।

বিচারকার্যে সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে সাক্ষ্যদানের জন্য বিদ্যমান আইন সংশোধন করে ‘অ্যাভিডেন্স (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২২’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। খসড়া আইন অনুযায়ী ভিকটিমকে জেরা করার ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখতে হবে। কোন জাতীয় প্রশ্ন প্রয়োজন সেটা কোর্ট ঠিক করে দেবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, কভিডের পর থেকে অনলাইনে মামলা-মোকদ্দমা চলছিল, এর ফলে সাক্ষ্য-প্রমাণ সব অনলাইনেই আসছিল। কিন্তু অ্যাভিডেন্স অ্যাক্টে এরকম ডিজিটাল অ্যাভিডেন্সের সরাসরি কোনো বিধান ছিল না। কেউ মামলায় হেরে যদি উচ্চ আদালতে আপিল করত, সে ক্ষেত্রে আইনি কিছু জটিলতা হওয়ার সুযোগ ছিল। এখন থেকে ডিজিটাল যে অ্যাভিডেন্স, সেগুলোও গ্রহণ করা হবে।

কেউ যাতে ভুয়া বা জাল সাক্ষ্যপ্রমাণ ডিজিটাল মাধ্যমে হাজির করতে না পারে সেজন্য সাক্ষ্য-প্রমাণের ফরেনসিক পরীক্ষা করা যাবে। টুইস্ট করার কোনো উপায় নেই। কেউ যদি টুইস্ট করে, তাহলে আমাদের দ-বিধির ২১১ ধারায় মিথ্যা সাক্ষ্যের বিষয় আছে আর ডিজিটাল অ্যাক্টেরও ৫৭ ধারা আছে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

দেশে জাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন আইন করার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সরকারিভাবে সংগ্রহ করা জাকাতের অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য এ আইন হচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে একটি জাকাত বোর্ড হবে। সেই বোর্ডের অধীনে একটি কমিটি করা হবে, তারা জাকাত সংগ্রহ করবে। জাকাত বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন ধর্মমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী, বোর্ডে সদস্য থাকবে ১০ জন।

এদিকে খুচরা পর্যায়ে তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের শুল্ক কমানোর সঙ্গে সঙ্গে আমদানি পর্যায়েও এসব পণ্যের শুল্ক সর্বোচ্চ কমানোর জন্য এনবিআরকে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, দাম সহনীয় রাখতে গত রবিবার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে ভোক্তাপর্যায়ে নিত্যপণ্যের ভ্যাট তুলে দেওয়াসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়। রবিবারের বৈঠকের বিষয়গুলেতে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। ভোজ্য তেলের খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট মওকুফ করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী এসআরওতে সই করেছেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আছে। সেটা যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে এনবিআরকে বিবেচনা করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমদানি পর্যায়ে কমালে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, শুধু ভোজ্য তেল নয়, চিনি বা যেগুলো বেশি প্রয়োজনীয় সেগুলোর ক্ষেত্রে ভ্যাট কমাতে বলা হয়েছে। যেটা খুবই ক্রাইসিসে থাকবে সেটার ক্ষেত্রে একদম কম পর্যায়ে নিয়ে আসা। ভ্যাট যথাসম্ভব সহনীয় পর্যায়ে নেওয়া যায় কি না সে বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এনবিআরকে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শুল্ক একেবারে তুলে দিলে সমস্যা আছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পুরোপুরি তুলে নিলে এনবিআর বুঝতে পারবে না কী পরিমাণ মালামাল ঢুকল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত