জ্বালানি তেলে দিনে ৮০ কোটি লোকসান, ভর্তুকি থাকছেই

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২২, ০৩:২৫ এএম

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দেশে তেল আমদানিকারক সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রতিদিন ৮০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। এতে মাসে ভর্তুকি যাচ্ছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। তবে এখনি দেশে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কথা ভাবছে না সরকার। বরঞ্চ বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে চায়। গতকাল সোমবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এসব তথ্য জানান।

বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (বিসিপিসিএল) ও ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স অব বাংলাদেশ (এফইআরবি) এর যৌথ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নসরুল হামিদ বলেন, ২১ মার্চ দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই দিনে দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকন্দ্র এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ায় বিপিসির প্রতিদিন ৮০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে জানিয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন,  ‘এ চাপ কতদিন থাকে তা সরকার পর্যবেক্ষণ করছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে কতদিন ভর্তুকি দিয়ে চলা যায় তা ভেবে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে কতদিন নিয়ন্ত্রণে থাকবে তা এখনি বলা যাচ্ছে না।’

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গত তেরো বছরে পাঁচগুণ বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিদ্যুৎসহ দেশে এখন উৎপাদন ক্ষমতা ২৫ হাজার ৫১৪ মেগাওয়াট। আরও ১৩ হাজার ২১৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন অবস্থায় আছে। এছাড়া ভারত থেকে বর্তমানে এক হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে।’

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতের উন্নয়ন কমকাণ্ডে ইউক্রেন যুদ্ধের সরাসরি কোনো প্রভাব এখনো পড়েনি। এই খাতের সব উন্নয়নকাজ আগের মতোই চলছে। ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ান কোম্পানি কাজ করছে। রাশিয়ার আরেক প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম তেল-গ্যাসের কূপ খননের কাজ করছে। তাদের কাজ করার ক্ষেত্রে যুদ্ধের কোনো প্রভাব পড়েনি।’

কাতার সফর প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কাতারকে আমরা অনুরোধ করেছি তারা যেন বাংলাদেশকে দীর্ঘ মেয়াদে ১৫ লাখ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেয়। দু-একদিনের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে। বর্তমানে কাতার থেকে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে।’

একই অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম শতভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পেরেছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও এখনো শতভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পারেনি। দেশের দুর্গম চরাঞ্চলেও বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে।’

দ্রুততম সময়ে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা তুলে ধরে নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড ও বিসিপিসিএল’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী এ. এম. খোরশেদুল আলম অনুষ্ঠানে বলেন, ‘কেন্দ্রটি ৩৬ মাসের মধ্য নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এটা বিশ্বে সবচেয়ে কম সময়ে আধুনিক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের রেকর্ড।’

আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, কয়লা ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব কয়লাভিত্তিক পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে পড়বে কিনাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে ৬৩০০ কিলো ক্যালরি কয়লার দাম বেড়েছে, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র কিনছে ৫০০০ কিলো ক্যালরি, যার দাম ১০৫ থেকে ১০৭ ডলার পড়ছে। সে কারণে এখনো পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানির দাম বাড়েনি।’

এফইআরবি চেয়ারম্যান শামীম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মাহাবুবুর রহমান, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত