অকৃতকার্যদের প্রমোশন, দর্শন বিভাগে প্রশ্নপত্রের মানবন্টনে পরিবর্তনসহ তিন দফা দাবিতে আবারও নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করেছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে তীব্র যানজটে পড়তে হচ্ছে রাজধানীবাসীকে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এর ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম বেঁধে দিয়ে রাস্তা ছাড়েন শিক্ষার্থীরা। ফের ৭২ ঘণ্টা পর হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত না আসায় আবারও আন্দোলনে অংশ নেন তারা। অন্যদিকে তীব্র যানজট তৈরি হয় নীলক্ষেত মোড় সংশ্লিষ্ট রাস্তাগুলোতে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, করোনা সংক্রমণের কারণে সিজিপিএ শর্ত শিথিল করতে হবে। প্রকাশিত সকল বিভাগের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বর্ষে প্রমোশন দিতে হবে। দর্শন বিভাগের প্রশ্নের মানবণ্টন পরিবর্তন করতে হবে। ১০০ মার্কের পরিবর্তে ৮০ মার্কের পরীক্ষা নিতে হবে এবং ২০ মার্ক ইনকোর্সের মাধ্যমে যোগ করতে হবে। গণহারে ফেইল করার কারণ ও প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং এর স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের স্লোগান দিতে শোনা যায় ‘তিন দফা তিন দাবি, মেনে নেও ঢাবি।’ আমরা যাচ্ছি তোমরা চলো, আন্দোলনকে সফল করো।’ দেখা হবে রাজপথে, কথা হবে স্লোগানে।
ঢাকা কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী এহসান বলেন, আমরা করোনাকালীন সময়ে মাত্র ২ মাস ক্লাস করার সময় পেয়েছি ৪ ঘণ্টার পরীক্ষা আমরা ২ ঘণ্টায় দিয়েছি প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলেও সময়ের অভাবে আমরা উত্তর দিতে পারিনি। ফলে গণহারে ফেল আসে। আমরা এর আগে কর্মসূচি পালন করেছি ও সাত কলেজের অধ্যক্ষ ও কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি কোনো ফল পাইনি।
বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত আক্তার বলেন, করোনার জন্য আমাদের দীর্ঘ সেশনজটে পড়েছি এবং যে পরীক্ষা ২০২০ সালে দেওয়ার কথা আমরা তা ২০২১ এর শেষে এসে দিতে পেরেছি। চার ঘণ্টার পরীক্ষা ২ ঘণ্টায় দেওয়ার ফলে ফলাফল বিপর্যয় ঘটে এখন আমাদের পরবর্তী বর্ষে প্রোমোশন না দিলে পড়াশোনা বাদ দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। আমরা সাত কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি তারা আমাদের কোনো সমাধান না দেওয়ার ফলে আমরা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি।
এ বিষয়ে নিউমার্কেট থানা এএসপি শরীর মোহাম্মদ ফারুকুজ্জাম বলেন, শিক্ষার্থীদের আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি। সকাল গাড়িয়ে দুপুর হয়েছে। একটু পর বিকেল নামবে। মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রশাসনের মুখে দাবি সংক্রান্ত বিষয়ে আশ্বাস শুনতে চায়। যদিও এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো প্রকার বার্তা আসেনি। আমরা জনজীবন স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি, যা হলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রতিবেদনে লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সড়কে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
