রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার করা মামলার খরচ জোগাতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসির) সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ওআইসির ৪৮তম পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতাবিষয়ক ওআইসি অ্যাডহক মন্ত্রিপর্যায়ের কমিটির বৈঠকে এ আহ্বান জানান পররাষ্ট্র সচিব (সিনিয়র সচিব) মাসুদ বিন মোমেন। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
মিয়ানমারকে জবাবদিহি করার জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে অ্যাডহক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে গাম্বিয়ার করা মামলায় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাম্প্রতিক শুনানির হালনাগাদ অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়। মামলা পরিচালনা করার জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্বেচ্ছায় তহবিল গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় তুরস্ক তহবিলে ২ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতি দেয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশ লাখ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বিশাল আর্থসামাজিক ও পরিবেশগত মূল্য বহন করতে পারে না। সুতরাং তাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করতে হবে। বিপুলসংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া এবং করোনার ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন অ্যাডহক সদস্যরা।
২০১৭ সালে মিয়ানমারে রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে নির্বিচার হত্যাকাণ্ড চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। এ সহিংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত প্রধান প্রসিকিউটরকে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতি, নিপীড়ন এবং তাদের বিরুদ্ধে অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত এবং সম্ভাব্য বিচারের এখতিয়ার দেন। পরে ২০১৯ সালের নভেম্বরে গণহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক সনদে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হয়েও মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে এবং এর মাধ্যমে সনদ লঙ্ঘন করেছে এমন অভিযোগে আইসিজেতে মামলা করে গাম্বিয়া।
