জোড়া খুনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার অসহযোগিতার অভিযোগ স্বজনদের

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২২, ১০:২৭ পিএম

সাভারের হেমায়েতপুরে আলোচিত দুই স্কুলছাত্র হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং ফাঁসির দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বজনেরা। 

সংবাদ সম্মেলন থেকে ওই হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার ট্যানারি ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আসামিদের সঙ্গে আঁতাত করে অসহযোগিতা এবং খারাপ আচরণের করার অভিযোগ করেন তারা।  মামলাটি পুলিশ ব্যুারো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) স্থানান্তরের দাবি জানান তারা। 

সোমবার দুপুরে সাভার মডেল থানার পাশে অবস্থিত পাবলিক লাইব্রেরিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব দাবি জানান নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।  

সংবাদ সম্মেলনে নিহত রায়হানের মা খাদিজা বেগম বলেন, প্রায় ৯ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলও পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার ট্যানারি ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে আসামিদের গ্রেপ্তারে টালবাহানাসহ উল্টো খারাপ আচরণ করছেন।

তিনি আরো বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমাদের বলছেন, শাহজালাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছে সে ও তার এক বন্ধু রবিউল এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। সে সময় আমরা তদন্ত কর্মকর্তার এ মন্তব্যে অনাস্থা প্রকাশ করি এবং আমার স্বামী,  স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী, তার স্বজন শাহজালালের বাবা-মা ও আমার বোন জামাইয়ের ভাই মাইনুদ্দিন ও ভাতিজা বায়জিদসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে (তদন্ত কর্মকর্তা) অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করেন না এবং ফোন করে জানতে চাইলে খারাপ আচরণ করেন। এখন তিনি আমাদের কোনো কথাই শুনেছেন না।

তিনি আরো বলেন, যে কারণে হত্যাকার পরিকল্পনাকারী ও হত্যায় সরাসরি জড়িতরা আইনের আওতায় আসছে না। একই সঙ্গে হত্যার নয় মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার অপর তালিকাভুক্ত আসামি রবিউলকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আমরা মামলার তদন্ত সিআইডি অথবা পিবিআইতে হস্তান্তরের দাবি জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত নাজমুলে বাবা নেসার উদ্দিন বলেন, আমার ভাই মাইনুদ্দিন ও আমার ভায়রা ভাইয়ের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক বিরোধ ছিল। আমাদের ধারণা তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। এ কারণে কয়েকজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞেসাবাদের কথা প্রস্তাব করলে তিনি (তদন্ত কর্মকর্তা) অনিহা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, হত্যায় নিহত রায়হানের ফুপাত ভাই শাহজালালের সংশ্লিষ্টতা পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয় যে, পারিবারিক কলহের জেরে সে তার বন্ধু রবিউলকে সঙ্গে নিয়ে রায়হান ও নাজমুলকে হত্যা করেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত রবিউলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 

তিনি আরো বলেন, নিহত নাজমুল ও রায়হানের পরিবারের সদস্য মামলায় কয়েকজনের নাম দিতে চেয়েছিলেন, যারা বরিশালে থাকেন। আমি তাদের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাদের নাম দিইনি এবং জিজ্ঞাসাবাদও করিনি। এ ঘটনায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

২০২১ সালের ১০ জুন রাতে সাভারের হেমায়েতপুর যাদুরচর বাসা থেকে ডেকে নিয়ে আপন দুই খালাতো ভাই রায়হান-নাজমুলকে দুর্বৃত্তরা নৃশংসভাবে হত্যা করে। পরদিন সাভারের ভাকুর্তা এলাকায় একটি পাটক্ষেত থেকে পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত