বাণিজ্য পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশকে কলম্বোর বন্দর আরও বেশি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ে রাজাপাকসে। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে দেশটির প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে রাজাপাকসে এ প্রস্তাব দেন। এ সময় বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানান।
১৮তম বিমসটেক মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠক এবং পঞ্চম বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছেন। তার আজ ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
বৈঠকে ভবিষ্যতে ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হন রাজাপাকসে ও ড. মোমেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন লঙ্কার প্রেসিডেন্ট। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থা মোকাবিলায় বিশেষ মনোযোগ দিয়ে সম্মিলিত সমৃদ্ধির নীতির জন্য প্রশংসা করেছেন তিনি। রাজাপাকসে বিভিন্ন বহুপক্ষীয় ফোরামে অব্যাহত সমর্থনের জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রাম ও কলম্বো বন্দরের মধ্যে নিয়মিত বাণিজ্যিক শিপিং লাইন এবং ক্রুজ শিপিংয়ের মাধ্যমে বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং পর্যটনের উন্নয়নে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। দুই দেশের মধ্যে পর্যটন আরও প্রসারের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাশ্রয়ী এয়ার টিকিটের মূল্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশ থেকে আলুসহ ফার্মাসিউটিক্যালস ও কৃষিজাত পণ্য আমদানির সম্ভাবনা অন্বেষণ করার জন্য শ্রীলঙ্কা সরকারকে প্রস্তাব দেন। এ বিষয়ে উভয়পক্ষই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি ও সুবিধার্থে দ্বিপক্ষীয় অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সইয়ের বিষয়ে সম্মত হয়।
বৈঠকে তারা খাদ্য নিরাপত্তা, আইসিটি, স্বাস্থ্যসেবা এবং সুনীল অর্থনীতিসহ সহযোগিতার সম্ভাব্য নতুন ক্ষেত্রগুলো নিয়েও আলোচনা করেন। এছাড়া দুই দেশের জনগণের বৃহত্তর সুবিধার জন্য এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির জন্য মুলতবি থাকা বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে অনুমোদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত এবং সম্পূর্ণ করতে সম্মত হন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের নিজ দেশে অবিলম্বে প্রত্যাবাসনের জন্য শ্রীলঙ্কার অব্যাহত সমর্থনের জন্য তার অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া গত ৪ মার্চ দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপনে উভয়পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ড. মোমেন দেশটির প্রেসিডেন্টকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
