সোমবার ওয়াশিংটনে মোমেন-ব্লিংকেন বৈঠক

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২২, ১২:১১ এএম

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০তম বার্ষিকীর দিনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি জে. ব্লিংকেনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার ওয়াশিংটনে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে এই বৈঠক হবে।

রবিবার সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগের আগে ড. মোমেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘বৈঠকে  আমরা আগামী ৫০ বছরে  আমাদের (বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র) দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কীভাবে আরও জোরদার হবে সে ব্যাপারে আলোচনা করব।’   

একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে অভ্যুদয়ের পর, ওয়াশিংটনের সাথে অর্ধশত বছরে একটি ভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বিন্যাস হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর দু’দেশের মধ্যে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ হয়েছে। গত ১০ ডিসেম্বর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও এলিট ফোর্সটির কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর, এই প্রথমবারের মতো ড. মোমেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। দ্বিপক্ষীয় ইস্যুর পাশাপাশি তিনি এই নিষেধাজ্ঞাটি পুনর্বিবেচনা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানাবেন।

ড. মোমেন বলেন, ‘আমরা এই (নিষেধাজ্ঞা ) ইস্যু উত্থাপন করব।’ যেহেতু র‌্যাব একটি দক্ষ, কার্যকর এবং দুর্নীতিমুক্ত বাহিনী, তাই তিনি আশা করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া আসবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিরাজ করছে এবং গত এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশ ব্যাপক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। কিন্তু কখনো কখনো আমাদের সফল ঘটনাগুলো বহির্বিশ্বে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। আমরা আমাদের সাফল্যের কথা বৈঠকে তুলে ধরব।’

ড. মোমেন বলেন, তিনি আইনের শাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের মামলায় দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি রাশেদ চৌধুরীকে হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করবেন। রাশেদ চৌধুরী এখন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় দেশ  এবং এজন্য ঢাকা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে কম আগ্রহী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা গত অংশীদারত্ব আলোচনাকালে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেয়া জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (জিএসওএমআইএ)’র খসড়াটি পরীক্ষা করে দেখছে।   

ওয়াশিংটন চায় ঢাকা যেন দুটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এ দুটি হলো- জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (জিএসওএমআইএ) এবং অ্যাকুইজিশন ক্রস সার্ভিসিং অ্যাগ্রিমেন্ট (এসিএসএ), যেগুলো দু’দেশের মধ্যে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও বেশি কিছু করার প্রবেশদ্বার।

ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে বহুমুখী বাণিজ্য বিস্তৃত করতে চায়, উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, খাদ্য নিরাপত্তা, নীল অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে সম্পৃক্ত থাকতে চায়- যা জনকল্যাণের সাথে সম্পর্কিত। বাংলাদেশ তার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ জানাবে।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি এ বৈঠককালে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ব্যাপারেও আলোচনা করবেন।

সূত্র: বাসস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত