শিক্ষকের ভুল ধরায় ছাত্রকে মারধর করে টিসি

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২২, ০৫:২৩ এএম

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ি জেবিপি উচ্চবিদ্যালয়ে সেদিন নবম শ্রেণির আইসিটি বিষয়ের নির্ধারিত শিক্ষক ছিলেন না। ক্লাস নিতে যান বিদ্যালয়ের সহগ্রন্থাগারিক জ্যোতির্ময় অধিকারী। ক্লাসে তিনি ভুল তথ্য উপস্থাপন করলে শিক্ষার্থীরা কানাঘুষা শুরু করে। এতে তিনি রেগে শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। তখন ফার্স্টবয় শেখ মোহেবুল্লাহ মাহি তাকে বিষয়টি বোঝাতে গেলে তাকে মারধর করে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে প্রধান শিক্ষকসহ আরও কয়েকজন শিক্ষকের সিদ্ধান্তে তাকে বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র বা টিসি দেওয়া হয়।

গত ৩০ মার্চের ওই ঘটনার পর গোটা এলাকায় বইছে সমলোচনার ঝড়। মাহির সহপাঠীরা তাকে পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। একাধিক শিক্ষকও বলছেন, তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে।

ওই দিন শ্রেণিকক্ষে থাকা একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, আইসিটি ক্লাসে নির্ধারিত শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় সহগ্রন্থাগারিক জ্যোতির্ময় অধিকারী ক্লাস নিতে এসে ভুল তথ্য উপস্থাপন করলে তা নিয়ে শ্রেণিকক্ষে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। তখন ফার্স্টবয় মাহি তাকে শান্ত করতে গেলে তিনি তাকে (মাহি) মারধর করতে করতে ক্লাস থেকে বের করে দেন। পরে সেদিনই তাকে টিসি দেওয়া হয়। তাদের ভাষ্য, মাহির সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। তাই মাহিকে আবার তাদের মাঝে ফিরিয়ে আনার দাবি তাদের।

এ বিষয়ে মাহি বলেছে, সহগ্রন্থাগারিক জ্যোতির্ময় অধিকারী সেদিন ক্লাসে একটি তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করছিলেন। তাকে বিষয়টি বোঝাতে গেলে তিনি উল্টো তাকে মারধর করেছেন। পরে অন্য শিক্ষকরা মিলে তাকে টিসি দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দিয়েছেন।

বিদ্যালয়টির এক শিক্ষক বলেন, মাহি মেধাবী ছাত্র। সে পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণিতে জিপিএ ৫ পেয়েছে। তার সঙ্গে যেটা করা হয়েছে তা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।

এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সহগ্রন্থাগারিক জ্যোতির্ময় অধিকারী। প্রধান শিক্ষক শেখ আব্দুর রশিদ বলেন, ‘মাহির মা-বাবা আমাদের কাছে টিসি চাওয়ার কারণে মাহিকে টিসি দেওয়া হয়েছে।’

তবে মাহির মা শিরিন আক্তার বলেন, ‘পরিবার থেকে মাহিকে টিসি দিতে বলা হয়নি। আমার ছেলেকে অন্যায়ভাবে টিসি দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। ওই শিক্ষার্থীর টিসি যাতে প্রত্যাহার করা হয় সে বিষয়ে আমি পদক্ষেপ নেব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত